

দুটো জয়ের পরে হঠাৎ খারাপ পারফরমেন্স - তারপর ঘুরে দাঁড়ালো ইস্টবেঙ্গলের। মহমেডানের বিরুদ্ধে ৭-০ গোলের বিশাল জয়। আইএসএল-এর ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের একটা রেকর্ড। এত বড় ব্যবধানে লাল হলুদ কখনও জেতেনি। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের ৪ নম্বর উঠে এসেছে ইস্টবেঙ্গল। এটাই লাল হলুদের চিফ কোচ অস্কার ব্রুজোঁকে বেশি তৃপ্তি জোগাচ্ছে।
ম্যাচ শেষে অস্কার বলেন, ‘গত ম্যাচের পর দলকে ঘিরে অনেক কথা হয়েছে। আমাদের ফুটবলারদের একটা চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। সেটা সামলে মহমেডান ম্যাচে নিজেদের আসল চরিত্রটা তুলে ধরে যেভাবে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে, তা সত্যি প্রশংসনীয়। কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে পয়েন্ট নষ্ট আমাদের কিছুটা হলেও পিছিয়ে দিয়েছিল। ওই ম্যাচে মনঃসংযোগের অভাবে গোল হজম করতে হয়েছিল। কিন্তু মহমেডান ম্যাচে ফুটবলাররা প্রথম থেকে নিজেদের ফোকাস ঠিক রেখেছিল। গোলের সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে। এই জয়ের ফলে ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ইন্টারন্যাশানাল ব্রেকের আগে এই ৩ পয়েন্ট পাওয়াটা খুব জরুরি ছিল। এখন যা পরিস্থিতি তাতে পরের ম্যাচ জিতলে লিগ টেবিলে আরও ওপরের দিকে ওঠা সম্ভব হবে।’
মহমেডানের বিরুদ্ধে বেশি গোলে জয় খেতাবী দৌড়ে ফেরালো কিনা এই প্রশ্নে অস্কারের প্রতিক্রিয়া, ‘আমি আগেও বলেছি এখন থেকে চ্যাম্পিয়নশিপের কথা ভাবতে চাই না। এখনও তাই বলছি। আগে লিগ টেবিলের ওপরের দিকে থাকাটা নিয়ে বেশি ভাবছি। আমাদের আরও ৭টা ম্যাচ বাকি। প্রতিটাই আমাদের কাছে ফাইনাল ভেবে খেলতে হবে। তারপর যেখানে পৌঁছানো সম্ভব হবে, সেখানে পৌঁছাব।’
আপাতত ইস্টবেঙ্গলের সামনে কোনও ম্যাচ নেই। পরের ম্যাচ চেন্নাইয়ের মাঠে চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে ১১ এপ্রিল। তাই সামনের সোমবার পর্যন্ত ফুটবলারদের ছুটি দিচ্ছেন কোচ, তরতাজা হওয়ার সুযোগ দিতে। এই লম্বা ব্রেকটা কি আশীর্বাদ হবে, না ছন্দপতনের কারণ হতে পারে? অস্কারের জবাব, ‘এটা ঠিক অনেকক্ষেত্রে দলের ছন্দপতন ঘটে লম্বা ব্রেকে, তবে আমার দলের ক্ষেত্রে সেটা ঘটবে না। ফুটবলাররা নিজেদের দায়িত্ব বোঝে। তাই ব্রেকের পর বোঝাপড়া জমাট করার কাজটা চালিয়ে যেতে অসুবিধা হবে না।’
গোল করে ও রক্ষণে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচের সেরা আনোয়ার। কোনও একজন ফুটবলারের প্রশংসা অস্কার করেন না। তবে তাঁর মুখে মহমেডান ম্যাচে ভাল খেলা ও জয়ের পিছনে রশিদ ও ক্রেসপোর যুগলবন্দাীর কথা উঠে আসে। ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কারের মুখে ছিল মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিনেরও প্রশংসা। বলেন, ‘ ওয়াডু বড় কোচ। যেভাবে বিনা বিদেশিতে সাধ্যমত লড়াই চালাচ্ছে প্রতি ম্যাচে, তাতে যথেষ্ট সাহস লাগে।’
ম্যাচ শেষে মহমেডান কোচ মেহারাজও জানান, ‘ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আগের কোচ, ফুটবলাররা দল ছেড়ে চলে গেলেও, আমি বিপদে পড়া মহমেডান দল ছেড়ে চলে যাইনি। জানতাম আইএসএলের অসম লড়াইটা হবে বেশি কঠিন। এমনকি ফল খারাপ হলে, আমার কোচিং কেরিয়ারে কালো দাগ পড়বে। তবু চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা, ফুটবলারদের লড়াইয়ে কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু খামতি কোয়ালিটিতে। সঙ্গে অনভিজ্ঞতা। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে হারটা অনেক বড় ব্যবধানের। সিলি মিস্টেকে শুরুতে গোল খেয়ে গেলে ফুটবলাররা খেই হারিয়ে ফেলে। তার ওপর ১০ জন হয়ে গেলে ইস্টবেঙ্গলের মতো হেভিওয়েট দলের বিরুদ্ধে গোল বাঁচানো কঠিন হয়েই যায়। ফলটা হতাশাজনক। ম্যাচ হেরে প্রতি রাতেই ঘুম আসে না। তবে আবার পরদিন নতুন করে শুরু করতে হয়। এবারও করব।'
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন