

গত তিন ম্যাচের একটিতে হার ও দুটিতে ড্রয়ের কারনে ইতিমধ্যেই ৭ পয়েন্ট খুইয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। রবিবার যুবভারতীতে ঘরের মাঠে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে তাই ৩ পয়েন্ট পেতে মরিয়া সবুজ-মেরুন কোচ সের্জিও লোবেরা ও তাঁর ব্রিগেড(৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট)। জয় পেতে ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না তাঁরা। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে শেষমুহূর্তে গোল খেয়ে ম্যাচ ১-১ ড্র করার হ্যাঙ্গওভার কাটিয়ে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত মিলেছে শনিবার যুবভারতীর ট্রেনিং গ্রাউন্ডের অনুশীলনে।
মোহনবাগান এসজি কোচ লোবেরার মতে, ‘যতক্ষণ দল জিতছে, ততক্ষণ সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু না জিতলেই অনেক কথা হবে। ত্রুটি খোঁজা চলবে। অথচ গত ৩ ম্যাচের মধ্যে মুম্বই সিটি ম্যাচটাই শুধু আমরা জেতার মতো খেলিনি। বাকি বেঙ্গালুরু ও জামশেদপুরের বিরুদ্ধে দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচে আমাদের ৩ পয়েন্ট পাওয়া উচিত ছিল। দুটো ম্যাচেই আগাগোড়া আধিপত্য ছিল মোহনবাগানের। বেঙ্গালুরু ম্যাচের শেষদিকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে দিমিত্রি। জামশেদপুরের বিরুদ্ধেও এক গোলে এগিয়ে থাকার পর অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম আমরা। দ্বিতীয় গোলটা করতে পারলে ম্যাচটা পকেটে পুরে নেওয়া যেত। কিন্তু সেটা না হওয়াতে শেষ মুহূর্তের ভুল আর মনঃসংযোগের অভাবে ৩০ সেকেন্ড বাকি থাকতে গোল হজম করে জেতা ম্যাচটা ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়। এই বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তার জন্য ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেইমতো প্র্যাকটিসও সেরেছি। আশা করি পাঞ্জাব ম্যাচে তার সুফল মিলবে।’
জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচে জায়গামতো সাইডব্যাকে অভিষেক সিং না থাকায় ৯৫ মিনিটে বিনা বাধায় হেডে গোল করে খেলায় সমতা ফেরান ঋত্বিক দাস। সেই ভুলের জন্য মরমে মরে আছেন অভিষেক। বলেই দিলেন, এই ভুল যাতে আর না হয়, তার জন্য সতর্ক থাকবেন এরপর থেকে।
পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচে চোটের জন্য নেই আপুইয়া। বাকি সব ফুটবলারই হাতে আছে কোচ লোবেরার। পাঞ্জাব ম্যাচে জয়ের রাস্তায় ফিরতে ঠিক কী কৌশল নেবেন, সেটা ভেঙে বললেন না সবুজ মেরুনের হেড স্যার। তবে এটা বলেই দিলেন, ঘরের মাঠে ম্যাচে জেতার লক্ষ্যে খেলার ধরনে বিশেষ বদল আনবেন না। আপুইয়া নেই, তাহলে সাহাল বা ভারতীয় ফুটবলারদের মধ্যে অন্য কাউকে ব্যবহার করবেন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে? একইসঙ্গে যেখানে ৪ জনের বেশি বিদেশি ফুটবলার ব্যবহারের সুযোগ নেই, সেখানে পাঞ্জাব ম্যাচে রক্ষণে একজন বিদেশির সঙ্গে ভারতীয় ডিফেন্ডার রেখে ওপরে আক্রমণে ৩ বিদেশিকে শুরু থেকে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা আছে কি?
লোবেরার উত্তর, ‘প্রতিপক্ষ অনুযায়ী দল নামাই, ছক কষি। পাঞ্জাবের খেলা দেখেছি। সেইমতো নিজের দলের কৌশল ঠিক করব। এখনও ঠিক করিনি রক্ষণে এক বিদেশির সঙ্গে দেশি স্টপার খেলিয়ে ওপরে ৩ বিদেশি অ্যাটাকার নামাব কিনা? সেটা নিয়ে এখনও ভাবছি। তাছাড়া এটা মাথায় রাখতে হবে, আপুইয়া যে রোলটা প্লে করে দলে, সাহাল সেই পজিশনের ফুটবলার নয়, সেভাবে খেলেও না। দলের খেলার ধরন বা কৌশলে বদল আনতে চাই না। তাই চুড়ান্ত দল গঠনের আগে আপুইয়ার বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে।‘ লোবেরা না বললেও, আপুইয়ার পজিশনে দীপক টাংরির শুরু থেকে খেলা সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে অনিরুদ্ধ থাপা যে একটু আক্রমণাত্মক খেলবেন বলাই বাহুল্য।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন