

কষ্ট করে পঞ্জাব এফসিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে জয় পেলো মোহনবাগান। রবিবার যুবভারতীতে টানাটান ম্যাচে ১২ মিনিটেই প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় পঞ্জাব এফসি। বাঁ দিক থেকে আক্রমণ করেন পাঞ্জাবের উবেস। মোহনবাগান গোলকিপার শুভাশিস বসু জায়গায় ছিলেন না। তাঁকে টপকে বল চলে যায় ড্যানি রামিরেজের কাছে। আর গোলের সামনে ড্যানি বল পেয়ে প্রায় ফাঁকা গোলে শট নেন ও দলকে এগিয়ে দেন।
ম্যাচের ২৯ মিনিটে সমতা ফেরায় মোহনবাগান। দারুণ কামব্যাক করেছে তারা। বাঁ দিক থেকে রবসন রবিনহো ফ্লিক করে বল দেন জেমি ম্যাকলারেনকে। তিনি ডিফেন্ডার বিজয়কে উল্টোদিকে ফেলে শট নেন। বলটা বিজয়ের গায়ে লেগে ঢুকে যায় বিপক্ষের পোস্টে। এটা চলতি মরশুমে জেমি ম্যাকলারেনের অষ্টম গোল। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলে।
সেকেন্ড হাফে ৬০ মিনিটে রামিরেজ়, ওসুজির জন্য বল বাড়িয়ে দেন। তাঁর বলের শটটা কম ছিল। সেই সময়ে মোহনবাগানের ডিফেন্ডার অভিষেকের কাছে সুযোগ ছিল বলটা বের করে দেওয়ার। কিন্তু তিনি তা না পাওয়ায় বল যায় ইফইংয়ের কাছে। তিনি ভলিতে গোল করে দেন। বিশাল কাইথ শট নিয়েও গোল করতে পারেননি। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় পঞ্জাব এফসি। ৭৪ মিনিটে সমতা ফেরায় বাগান। পোস্টের প্রায় ৩০ গজ দূরে বল পান সাহল আব্দুল সামাদ। তিনি ডান পায়ের ইনসেটে শট নেন। বলটা হাল্কা ডানদিকে কেটে ঢুকে যায় পোস্টে। পাঞ্জাবের গোলকিপার অর্শদীপের পক্ষে সম্ভব ছিল না এই শট আটকানো।
খেলা যখন একদম ড্র নিশ্চিত তখনই অতিরিক্ত সময়ে জেসন কামিন্স-এর অসাধারণ গোলে বাগান একপ্রকার জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ম্যাকলারেন জানান, ‘ শনিবার আমি মেলবোর্নে থাকা দিদিমা অ্যানি মাসকটকে হারিয়েছি। দিদিমার সঙ্গে আমার গভীর ভালবাসার সম্পর্ক ছিল। তাই দিদিমার প্রয়াণের খবরে এতটাই মন খারাপ ছিল, পাঞ্জাব ম্যাচটা খেলার মতো মানসিক অবস্থা ছিল না। তারপর ঠিক করি, দলের স্বার্থের কথা ভেবে ম্যাচটা খেলব। গোল করে দিদিমাকে উৎসর্গ করব। সেটাই করেছি। দিদিমা যেখানেই থাকুন, তিনি আমার গোলের জন্য নিশ্চয়ই আশীর্বাদ করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এর আগে অসংখ্য গোল করেছি। তার মানে এই নয়, সব ম্যাচে গোল পাব। আসলে স্ট্রাইকারদের জীবনে মাঝে মাঝে এমন সময় আসে, যখন গোল পেতে সমস্যা হয়। আমারও হয়েছে, গত ৩ ম্যাচে। বিশেষ করে জামশেদপুর ম্যাচে নিশ্চিত গোল মিস করায় খুব হতাশ ছিলাম। কী করলে আবার গোল পাব তার জন্য বাড়তি প্র্যাকটিস করেছি। নিজের ফোকাস বাড়িয়েছি। শেষপর্যন্ত পাঞ্জাবের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোল আসায় ভাল লাগছে। তবে আমাদের আরও ভাল খেলতে হবে পরের ম্যাচগুলোয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে থাকতে।’
অন্যদিকে, ম্যাচের জয়ে খুশি হলেও খেলায় সন্তুষ্ট নন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কোচ সের্জিও লোবেরা। ম্যাচ শেষে লোবেরা বলেন, ‘গত ৩ ম্যাচ পর জয়ে ফেরা ও পুরো ৩ পয়েন্ট প্রাপ্তিতে ভাল লাগলেও, দলের পারফরমেন্সে মোটেই খুশি না। বেঙ্গালুরু বা জামশেদপুর ম্যাচ না জিতলেও দল ভাল খেলেছিল। জয় না পাওয়াটা ছিল দুর্ভাগ্যের। সেখানে মুম্বই সিটির মতোই পাঞ্জাব ম্যাচেও প্রত্যাশার ধারেকাছে পারফর্ম করতে পারেনি ফুটবলাররা। পাঞ্জাব ম্যাচ কঠিন হবে জানতাম, কিন্তু তাই বলে আমাদের বিরুদ্ধে এতগুলো সুযোগ যে ওরা তৈরি করবে, এটা কাম্য ছিল না। এদিকটায় আমাকে নজর দিতে হবে। যেভাবে গোল খেয়েছে দল সেটাও। সব মিলিয়ে এটা বলব, আমাদের খেলায় অনেক উন্নতি জরুরি, কারণ আমাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া।‘
মাঝমাঠে আপুইয়ার না থাকাটা কি সমস্যা তৈরি করেছিল? লোবেরার জবাব, ‘আপুইয়া নিঃসন্দেহে দলের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। কিন্তু একজন ফুটবলার না থাকায়, দল খারাপ খেলবে এটা মানা যায় না। এমন অজুহাত আমি অন্তত দিতে পারব না। একজন কোচ হিসেবে হাতে অনেক ভাল ফুটবলার থাকতে, এমন কথা বলা ঠিক মনে করি না। বরং বাকি ম্যাচগুলোয় দলের পারফরমেন্স বাড়াতে যা যা করার,করব।'
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন