

প্রথম বার আইএসএল জিতল ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছর পর জাতীয় স্তরে ট্রফি জিতল ইস্টবেঙ্গল। ২৪ ঘণ্টা আগে দলের কোচ অস্কার ব্রুজো চেয়েছিলেন, শেষ ৯০ মিনিট নিজেদের সেরাটা দিক দলের ছেলেরা। সেটাই দিলেন মিগুয়েল ফিগুয়েরা, রশিদ, ইউসেফ এজেজারিরা। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে স্বপ্নপূরণ হল তাদের। পিছিয়ে পড়েও ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারাল লাল-হলুদ শিবির।
শুরু থেকেই অ্যাটাকিং ফুটবল শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। ছয় মিনিটে বিপিন সিংয়ের কর্নার থেকে ভাসানো বল পান ইউসেফ এজেজারি। তিনি হেড দিয়ে বলটা দেন মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে। ফার্স্ট পোস্টে বলটা পেয়ে ব্যাকভলি করেন ব্রাজিলিয়ান মিডিও। কিন্তু শট জোরাল না হওয়ায় ইন্টার কাশীর গোলকিপারের পায়ে আটকে যায়।
এরপর ১৫ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় কাশী। ডেভিড হিউমানেস বল বাড়ান আলফ্রেডকে। তিনি পোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে চলতি বলে পা ছুঁইয়ে দেন। প্রভসুখন গিল বোঝার আগেই তাঁর মাথার উপর দিয়ে ভলি করে বল ঢুকে যায় গোলপোস্টে।
এরপর বারবার গোলের কাছে পৌঁছেও ব্যর্থ হয় লাল-হলুদ শিবির। ২৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বিপিন ক্রস বাড়ান গোলের সামনে দাঁড়ানো এজেজারিকে। তাঁকে শুধু পা ছোঁয়াতে হতো। কিন্তু একেবারে গোলের সামনে গিয়ে বাইরে মারেন তিনি। ম্যাচ শুরুর পর থেকে এটা ছিল অন্যতম সহজ সুযোগ।
তারপরই জোড়া অ্যাটাক করে বসে ইন্টার কাশী। প্রথমে বক্সের ঠিক মাথায় ফের জোরাল শট নেন আলফ্রেড। কোনও রকমে দলের পতন রক্ষা করেন লাল-হলুদের গোলকিপার। তারপর ডানপ্রান্তের আরেকটি আক্রমণও শরীর ছুড়ে অনবদ্য দক্ষতায় বাঁচান গিল। এরই মধ্যে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুন করার সুযোগ পান হাওবাম। কিন্তু তিনি সাইড নেটে বল মারেন।
প্রথমার্ধ শেষের কয়েক মিনিট আগে ইস্টবেঙ্গল আক্রমণ করলেও, বিপক্ষ বল নিয়ে উঠলে চাপে পড়ে লাল হলুদের রক্ষণ ভাগ। কার্যত ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে থাকে তারা। সেই লগ্নের শেষ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মহম্মদ রাকিপ। তাঁকে তুলে নিয়ে ডেভিড লালহানসাঙ্গাকে নামান অস্কার ব্রুজো। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইন্টার কাশী।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এজেজারির গোলে সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল। মাঝমাঠ থেকে আনোয়ারের ভাসানো বল ধরতে ইন্টার কাশীর অফসাইড ফাঁদকে বোকা বানান ইউসেফ। তিনি গোলকিপারকে কাটিয়ে দুই ডিফেন্ডারকে সঙ্গে নিয়ে বাঁ পায়ে শট দেন। এক্ষেত্রে বিপক্ষের গোলকিপারের আউটটিংয়ে ভুল ছিল। ফলে বল গিয়ে জড়ায় জালে।
এরপর ৫৯ মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে সেকেন্ড পোস্টে শট নেন ইন্টার কাশীর আলফ্রেড। কিন্তু বলটা পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর ৭১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন অস্কার। আনোয়ারের জায়গায় নামেন সৌভিক চক্রবর্তী ও ইউসেফ এজেজারিকে তুলে নামানো হয় অ্যান্টন সহবার্গকে। তাতেই যেন বদলে যায় দলের রণকৌশল।
তিন মিনিট পর দলকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন মহম্মদ রশিদ। দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে বুদ্ধি কাজে লাগাল লাল হলুদ ফুটবলাররা। ডান প্রান্ত থেকে বিপিনের মাপা ক্রস দেখে কাশীর রক্ষণকে ছিড়ে বেরিয়ে যান তিনি। যদিও সেই সময়ে অফসাইডে ছিলেন অ্যান্টন। তবে শরীর ছুড়ে কোনও মতে পা ছুড়ে জালে বল জড়িয়ে দেন রশিদ। যদিও এরপর ইন্টার কাশী গোল করে মরসুমের শেষ ম্যাচে হার বাঁচানোর চেষ্টা করলেও, তেমন লাভ হয়নি।
অন্যদিকে জিতেও স্বপ্ন শেষ মোহনবাগানের।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন