

এসআইআর-শুনানির নোটিস পেলেন ভারতের জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। কয়েকদিন আগে মেহতাবের মা’কে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এবার তিনি নিজে নোটিস পেলেন। নোটিস পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দুই প্রধানের হয়ে খেলা তারকা ফুটবলার।
বর্তমানে নিউ টাউনে থাকলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মল্লিকপুরে তাঁর জন্ম। সেই হিসেবে সেখানের ভোটার তালিকাতেই তাঁর নাম রয়েছে। সেখানেই হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মেহতাবের মায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নথিতে তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে। তাই নোটিস জারি করা হয়েছে।
নোটিস পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মেহতাব হোসেন। তাঁর প্রশ্ন, “দেশের হয়ে এত বছর খেলার পরও যদি নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে দাঁড়াতে হয়, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমাদের অবদান কি তা হলে মূল্যহীন?’’
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘’আমরা ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। সেটা একেবারেই কাম্য নয়। ভোটার কার্ড তো সরকারই দিয়েছে। সেখানে ত্রুটি থাকলে আধিকারিকদের ডাকা হোক, আমজনতাকে কেন?”
তাঁর কথায়, ‘’এই প্রক্রিয়াটা নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তা করতে হত। যথাযথ পরিকল্পনা করতে হত। প্রচুর বয়স্ক মানুষকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে শুনানিতে। হাজিরা দিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। যাঁদের মাধ্যমিকের শংসাপত্র নেই তাঁরা আজ কীভাবে সেই নথি জোগাড় করবেন? যাঁদের সারাজীবন পাসপোর্ট নেই, তাঁরা আজ কীভাবে পাসপোর্ট তৈরি করবেন?”
বিকল্প ও সহজতর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন মেহতাব।
উল্লেখ্য, ভারতের জাতীয় দলের জার্সিতে প্রায় ৩০টি ম্যাচ খেলেছেন মেহতাব হোসেন। কলকাতার দুই প্রধান ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল উভয়েরই অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি সুন্দরবন অটো এফসি দলের কোচ হিসাবে বেঙ্গল সুপার লিগের সেমিফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দল ছেড়েছিলেন তিনি।
এর আগে ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামি ও প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্ল, মোহনবাগান রত্ন টুটু বসু, আর এক জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবিকে এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। এছাড়াও অন্যান্য জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এসআইআর নোটিস পাঠানো হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন