

মঙ্গলবার এলাহাবাদ হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তানন্দ সরস্বতী। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ধারা অনুসারে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিমুক্তানন্দ সরস্বতী এবং তাঁর এক শিষ্য মুকুন্দানন্দ ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে প্রয়াগরাজের ঝুনসি থানায় এক অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং এফআইআর প্রসঙ্গে অভিমুক্তানন্দ স্বামী জানিয়েছেন, গত ১৮ জানুয়ারি মৌনী অমাবস্যার সময় প্রয়াগরাজে প্রশাসনের তাঁর ঝামেলার কারণেই তাঁকে হেনস্থা করতে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কী বক্তব্য?
শঙ্করাচার্যের বিরুদ্ধে আনা যৌন হেনস্থার অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই মঙ্গলবার বারাণসীতে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর সাথে দেখা করেন এবং জানান, কংগ্যেরেস সব রকমভাবে তাঁর পাশে আছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব রবিবার লখনউতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রামভদ্রাচার্যকে আক্রমণ করে বলেন, অভিযোগকারী তার শিষ্য। "যদি এই (অভিযোগকারী) তার (রামভদ্রাচার্য) শিষ্য হয়, তাহলে রামভদ্রাচার্যের বিরুদ্ধে একসময়ের মামলা প্রত্যাহার করে আমি ভুল করেছি; আমার তাকে জেলে পাঠানো উচিত ছিল।" তিনি আরও বলেন, উত্তরপ্রদেশ সরকার সস্তার রাজনীতি করছে।
কে এই অভিযোগকারী আশুতোষ ব্রহ্মচারী?
শঙ্করাচার্য-র বিরুদ্ধে যিনি এই অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর নাম আশুতোষ ব্রহ্মচারী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২৭টি মামলা আছে বলে শোনা যাচ্ছে। যার মধ্যে ধর্ষণ থেকে গো-হত্যা সহ বিভিন্ন বিষয়ে মামলা আছে। এই ব্যক্তির নাম আগে ছিল আশুতোষ পান্ডে ওরফে অশ্বিনী সিং। উত্তরপ্রদেশের শামলি, মুজফফরনগর এবং লখনউয়ের মত জেলায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা ২৭ এবং শামলির কান্ধলা পুলিশ থানায় তিনি একজন হিস্ট্রি শিটার হিসেবেই পরিচিতি। এই বিষয়ক যে তথ্য সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে হিস্ট্রি শিটার হিসেবে তাঁর নম্বর ৭৬এ।
আশুতোষ ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধে মোট কতগুলি ও কী কী অভিযোগ>
আশুতোষ পান্ডের বিরুদ্ধে গো হত্যা, চোরাচালান, ঘুষ নেওয়া সহ একাধিক মামলা আছে। যে অভিযোগের কারণে তিনি জেলও খেটেছেন। এছাড়াও এক বিধবা মহিলার গণধর্ষণ, এক দলিতার মহিলার ধর্ষণের ঘটনাতেও তিনি অভিযুক্ত। এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সরকারি চাকরি দেবার নামে প্রতারণা, জমি ও সম্পত্তি দখল, বিচারকের সই জালিয়াতি, মন্দির দখল, প্রতারণা, গ্যাং তৈরি করে হুমকি দেওয়া, মিথ্যা হলফনামা দাখিল করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত অভিযোগও আছে। একসময় তাঁকে ধরিয়ে দিতে পারলে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল পুলিশ।
যদিও এই সব অভিযোগি অস্বীকার করেছেন আশুতোষ পান্ডে। বর্তমানে তিনি নিজেকে একজন ধার্মিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন এবং শকুম্ভরী মঠের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন। বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তাঁর ছবি দেখা যায়। তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে তিনি রামভদ্রাচার্যর কাছ থেকে দীক্ষা নেন। যে রামভাদ্রাচার্য আবার প্রবলভাবে শঙ্করাচার্য অভিমুক্তানন্দ সরস্বতীর বিরোধী হিসেবেই পরিচিত।
মাঘ মেলার সময় কী হয়েছিল?
গত জানুয়ারি মাসে মাঘ মেলা চলাকালীন অভিমুক্তানন্দ সরস্বতীর সঙ্গে প্রশাসনের মতবিরোধের পর এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের সূত্রপাত। যে ঘটনার পর অনেকেই যেমন অভিমুক্তানন্দ সরস্বতীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আবার অনেকেই তাঁর বিরোধিতা করে উত্তরপ্রদেশ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
ওই সময় আশুতোষ ব্রহ্মচারী প্রকাশ্যে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরোধিতা করেন এবং পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর তিনি যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এনে প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং পকসো বিশেষ আদালতের দ্বারস্থ হন। ২১শে ফেব্রুয়ারি, পকসো আদালত স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ, তাঁর শিষ্য মুকুন্দানন্দ এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয়।
এফআইআর অনুসারে, আশুতোষ ব্রহ্মচারী মহারাজ এবং আরও দুজন অভিযোগ করেছেন যে অভিযুক্তরা এক গুরুকুলে এবং ধর্মীয় সমাবেশের সময়, যার মধ্যে সম্প্রতি প্রয়াগরাজে সমাপ্ত মাঘ মেলাও অন্তর্ভুক্ত, তাদের যৌন নির্যাতন করেছেন। অভিযোগকারীদের আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশকে পকসো আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিশেষ বিচারকের আদেশের পরে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
স্বামী অভিমুক্তানন্দ সরস্বতী এর আগে কী কী বিষয়ে মুখ খুলেছেন?
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার স্বামী অভিমুক্তানন্দ সরস্বতীর কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকার। একাধিক সময়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়েও মন্তব্য করে থাকেন। ২০২৫ সালের মহাকুম্ভে যানজট, বারবার অগ্নিকান্ড, পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে নদীর জলে মাত্রাতিরিক্ত দূষণ সবকিছু নিয়েই তিনি প্রবল সমালোচনা করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ সরকারের । সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে তিনি জানান, '৩০০ কিলোমিটার যানজট ছিল। যদি এটি অব্যবস্থাপনা না হয়, তাহলে কী? মানুষকে তাদের জিনিসপত্র নিয়ে ২৫-৩০ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়েছিল। স্নানের জলে নর্দমার জল মিশে যাচ্ছে এবং বিজ্ঞানীরা এটিকে স্নানের জন্য উপযুক্ত মনে করেন না, তবুও কোটি কোটি মানুষকে এতেই স্নান করতে বাধ্য করা হয়েছে।'
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন