NIA: সুভাষগ্রাম থেকে NIA-র হাতে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্য গ্রেপ্তার

আটক হওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল মান্নান। তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুভাষগ্রাম অঞ্চল থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে কলকাতায় আনা হচ্ছে।
NIA: সুভাষগ্রাম থেকে NIA-র হাতে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি প্রতীকীফাইল ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুভাষগ্রাম থেকে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করলো ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। সূত্র অনুসারে, আটক ব্যক্তি বাংলাদেশের জামাত-উল-মুজাহিদিন (JMB) নামক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের হয়ে সদস্য সংগ্রহের কাজ করতো।

আটক হওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল মান্নান। তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুভাষগ্রাম অঞ্চল থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে কলকাতায় আনা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থার সূত্র অনুসারে, ধৃত মান্নান জেএমবি-র সক্রিয় সদস্য এবং সংগঠনে সদস্য সংগ্রহ ছাড়াও তিনি পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনের স্লিপার সেলকে পুনরায় চালু করার কাজে যুক্ত ছিলেন। পুরোনো জেএমবি সদস্যদের সঙ্গে নতুন জেএমবি সদস্যদের সংযোগরক্ষাকারী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করতেন।

এদিন আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তারের সময় এনআইএ একাধিক ভুয়ো ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড উদ্ধার করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দাদের সন্দেহ এই ব্যক্তি জাল পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গেও যুক্ত আছেন।

সূত্র অনুসারে, এনআইএ মনে করছে ‘লিঙ্কম্যান’ মান্নানের গ্রেপ্তারিতে বহু গোপন তথ্য জানা যেতে পারে। আরও জানা গেছে জেএমবি-র তিন প্রথম সারির সন্ত্রাসীর সঙ্গে মান্নানের সরাসরি যোগাযোগ ছিলো। যাঁদের গত জুলাই মাসে গ্রেপ্তার করে কলকাতার স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ওই সময় যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো তাঁরা হলেন নাজিউর রহমান ওরফে জয়রাম ব্যাপারী ওরফে জোসেফ (৩০), রবিউল ইসলাম (২২) এবং শেখ সাব্বির ওরফে মাইকেল খান (৩০)। এঁদের হরিদেবপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারির ১ মাস আগেই তাঁরা অবৈধভাবে সীমান পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলো।

তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুসারে, কোভিড ১৯ লকডাউনের কারণে বেকারি বেড়েছে। ফলে এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের পক্ষে সদস্য সংগ্রহ সহজ হয়েছে। এই সুযোগ নিয়েই রাজ্যে সংগঠন বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে জেএমবি, আইএস সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে সারা পূর্ব ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোই এদের লক্ষ্য। জানা গেছে আটক তিন জেএমবি সন্ত্রাসবাদীদের কাছ থেকে এই তথ্য উদ্ধার করেছে এনআইএ এবং এসটিএফ তদন্তকারীরা।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রদপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মেধাবী কিন্তু বেকার যুবকদের মগজ ধোলাই এমন একটি সমস্যা যা কোনো পুলিশ বা সন্ত্রাসবিরোধী এজেন্সি মোকাবিলা করতে পারে না। তৃণমূল স্তরের পুলিশ সদস্যরাই এই সমস্যা কিছুটা হলেও মোকাবিলা করতে পারে। রাজ্য পুলিশ কর্তৃপক্ষের উচিত এই লক্ষ্যে কনস্টেবল স্তরের কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয় না। পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ কর্মীদের অভাব রয়েছে এবং তাই তাঁরা প্রধানত আইনশৃঙ্খলা সমস্যা মোকাবিলায় জড়িত। এঁদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই স্লিপার সেলের সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য প্রশিক্ষিত বা সজ্জিত।

ছবি প্রতীকী
GOA: রাজ্যে অক্সিজেন ঘাটতিতে মৃত্যু - মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি কংগ্রেসের

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in