

২৪ জুন ২০২৪ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। অষ্টাদশ লোকসভায় এখনও পর্যন্ত অধিবেশন বসেছে ৭টি। যার মধ্যে এই মুহূর্তে বাজেট অধিবেশন চলছে। যার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে ১৩ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৯ মার্চ এবং শেষ হবে ২ এপ্রিল। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত তৃণমূল, বিজেপি এবং কংগ্রেসের ৪২ জন সাংসদের লোকসভার বিগত ৭ অধিবেশনের পারফরমেন্স। এই তথ্যের পুরোটাই লোকসভার ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া এবং এখানে যে হিসেব দেওয়া আছে ২৪ জুন ২০২৪ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। অর্থাৎ বাজেট অধিবেশনের শেষ ১ সপ্তাহের তথ্য এখানে নেই।
২০২৪ অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২ আসনের মধ্যে তৃণমূল ২৯, বিজেপি ১২ এবং কংগ্রেস ১ আসনে জয়ী হয়। এখনও পর্যন্ত লোকসভার যে ৭ অধিবেশন হয়েছে তাতে রাজ্যের কয়েকজন সাংসদ বাদে অধিকাংশের পারফরমেন্সই ভালো নয়। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তা জাতীয় গড়েরও নীচে।
ঘাটাল কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)।
বিগত ৭ অধিবেশনে তাঁর গড় উপস্থিতির হার ৯ শতাংশ। ২০২৪-এর শীতকালীন অধিবেশনে তিনি একদিনও সংসদে যাননি এবং ২০২৫-এর বাজেট অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার সর্বাধিক, ১৫ শতাংশ। অষ্টাদশ লোকসভায় এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও বিতর্কে অংশ নেননি। ৭৭টি প্রশ্ন রেখেছেন ৭ অধিবেশনে।
বারাকপুর কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক।
অষ্টাদশ লোকসভার ৭টি অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির গড় ১৬ শতাংশ। সর্বনিম্ন উপস্থিতি ২০২৪-এর শীতকালীন অধিবেশনে, ১০ শতাংশ এবং সর্বাধিক উপস্থিতি অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশনে, ২৯ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত তিনি মাত্র ২টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং প্রশ্ন করেছেন ৭টি।
দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ মালা রায়।
লোকসভার ৭ অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার ২৭ শতাংশ। সংসদের দুটি অধিবেশনে তিনি একদিনও যাননি। সবথেকে বেশি উপস্থিতি ২০২৫-এর শীতকালীন অধিবেশনে, ৫৩ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত তিনি ২টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং প্রশ্ন করেছেন ১০৫ টি।
ডায়মণ্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিগত ৭ অধিবেশনে তাঁর সর্বনিম্ন উপস্থিতি ২০২৫-এর শীতকালীন অধিবেশনে, ১৩ শতাংশ এবং সর্বাধিক উপস্থিতি ২০২৬-এর বাজেট অধিবেশনে, ৪৬ শতাংশ। শেষ ৭টি অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির গড় ৩২ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত তিনি ৩টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং মোট ৫২টি প্রশ্ন করেছেন।
হুগলী কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ রচনা ব্যানার্জি।
লোকসভার শেষ ৭ অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির গড় ৪১ শতাংশ। সর্বনিম্ন উপস্থিতি ২০২৫-এর বাজেট অধিবেশনে, ১৯ শতাংশ এবং সর্বাধিক লোকসভার প্রথম অধিবেশনে ৮৬ শতাংশ। তিনি লোকসভায় ৪টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং ৮৯টি প্রশ্ন করেছেন।
উত্তর কলকাতার তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এখনও পর্যন্ত ৭ অধিবেশনে তাঁর গড় উপস্থিতির হার ৪১ শতাংশ। দুটি অধিবেশনে তিনি একদিনও উপস্থিত ছিলেন না এবং দুটি অধিবেশনে তিনি ১০০ শতাংশ উপস্থিত ছিলেন। শেষ ৭টি অধিবেশনে তিনি ৫ টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং এখনও পর্যন্ত কোনও প্রশ্ন করেননি।
বাঁকুড়া কেন্দ্রের সাংসদ তৃণমূলের অরূপ চক্রবর্তী।
বিগত ৭ অধিবেশনে সংসদে তাঁর উপস্থিতির হার গড়ে ৫৩%। যার মধ্যে অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার সর্বাধিক, ৭১%। অষ্টাদশ লোকসভার বাজেট অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। বিগত ৭ অধিবেশনে তিনি মাত্র ২টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন (জাতীয় গড় ১৭)। ৭টি অধিবেশনে তাঁর করা মোট প্রশ্ন সংখ্যা ১৫, যেখানে জাতীয় গড় ৮৮।
কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া।
লোকসভার ৭ অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির গড় হার ৫৪ শতাংশ। সর্বনিম্ন উপস্থিতি ২০২৫-এর বাজেট অধিবেশনে, ২৭ শতাংশ এবং সর্বাধিক উপস্থিতি ২০২৫-এর শীতকালীন অধিবেশনে, ৮৭ শতাংশ। মোট ৬টি বিতর্কে তিনি অংশ নিয়েছেন এবং ২২টি প্রশ্ন করেছেন।
বারাসত কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার।
লোকসভার ৭ অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির গড় হার ৬০ শতাংশ। সর্বনিম্ন উপস্থিতি ২০২৬-এর বাজেট অধিবেশনে, ৩১ শতাংশ এবং সর্বাধিক উপস্থিতি ২০২৪-এর বাজেট অধিবেশনে, ৯৩ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত তিনি ৪টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং ১২ টি প্রশ্ন করেছেন।
আসানসোল কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা।
লোকসভার ৭ অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার ৬২ শতাংশ। যারমধ্যে প্রথম অধিবেশনে তিনি একদিনও উপস্থিত ছিলেন না এবং সবথেকে উপস্থিত ছিলেন ২০২৪-এর বাজেট অধিবেশনে, ৮৭ শতাংশ। শেষ ৭ অধিবেশনে তিনি কোনও বিতর্কে অংশ নেননি এবং এখনও পর্যন্ত লোকসভায় ৬টি প্রশ্ন করেছেন।
আরামবাগ কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগ।
লোকসভার ৭ অধিবেশনে তাঁর গড় উপস্থিতির হার ৬৬ শতাংশ। লোকসভার প্রথম অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার ১০০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন উপস্থিতি ২০২৫-এর বাজেট অধিবেশনে ৩৮ শতাংশ। ১১টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং ২০টি প্রশ্ন করেছেন।
হাওড়া কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।
এখনও পর্যন্ত ৭ অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার ৭৬ শতাংশ। দুটি অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার ১০০ শতাংশ এবং তাঁর সর্বনিম্ন উপস্থিতির হার ২০২৬-এর বাজেট অধিবেশনে, ২৩ শতাংশ। শেষ ৭ অধিবেশনে তিনি ১টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং এখনও পর্যন্ত কোনও প্রশ্ন করেননি।
দমদম কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়।
শেষ ৭ অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির গড় হার ৮৩ শতাংশ। ৬টি অধিবেশনে তিনি প্রতিদিন উপস্থিত থেকেছেন। ২০২৫-এর শীতকালীন অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার ৫ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত তিনি ৫৭টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং ১৩৪টি প্রশ্ন করেছেন।
শ্রীরামপুর কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ ৭টি অধিবেশনে তাঁর গড় উপস্থিতির হার ৯০ শতাংশ। লোকসভার দুটি অধিবেশনে তিনি ১০০ শতাংশ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সর্বনিম্ন উপস্থিতির হার ২০২৫-এর শীতকালীন অধিবেশনে, ৮১ শতাংশ। তিনি ২৪টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং ৫৪টি প্রশ্ন করেছেন।
বোলপুর কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ অসিত মাল।
বিগত ৭ অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির গড় হার ৯১ শতাংশ। তিনটি অধিবেশনে তাঁর উপস্থিতির হার ১০০ শতাংশ এবং ২০২৬-এর বাজেট অধিবেশনে তিনি সবথেকে কম সময় সংসদে ছিলেন। যার হার ৬৯ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত তিনি ৭টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন এবং ৭ অধিবেশনের কোনোটিতেই কোনও প্রশ্ন করেননি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন