Karnataka: অন্য দলের নেতাদের আমন্ত্রণ, কর্ণাটকে বিজেপি অনুগতদের ক্ষোভ

২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের কৌশল হিসাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো যে সিদ্ধান্ত বিজেপি শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে তাতে তাঁরা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
Karnataka: অন্য দলের নেতাদের আমন্ত্রণ, কর্ণাটকে বিজেপি অনুগতদের ক্ষোভ
ছবি প্রতীকীছবি সংগৃহীত

বিজেপি নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে বিরক্ত কর্ণাটকের দীর্ঘদিনের বিজেপি অনুগত নেতা, কর্মী, সমর্থকরা। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের কৌশল হিসাবে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো যে সিদ্ধান্ত বিজেপি শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে তাতে তাঁরা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

সূত্র অনুসারে, দলের অভ্যন্তরে অনুগত নেতাকর্মীরা অন্য দলের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এবং তারা এই বিষয়ে প্রথম সারির নেতৃত্বকে সিনিয়রদের প্রশ্ন করছেন। পাঁচটি রাজ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের পরে মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই বলেছেন, বিরোধী দলগুলির অনেক নেতা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বোম্মাই আরও বলেছেন, তাদের উপযুক্ত সময়ে দলে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। এই ঘটনায় দলের প্রতি অনুগত অনুগত নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ।

গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কর্ণাটক সফরের সময় কর্ণাটক বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান বাসভরাজ হোরাট্টি বিজেপিতে যোগ দেন। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রমোদ মাধওয়ারাজ, প্রাক্তন এমএলসি সন্দেশ নাগরাজ, প্রাক্তন বিধায়ক ভার্থুর প্রকাশ এবং মঞ্জুনাথ গৌড়া সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

প্রাক্তন রাজ্যসভার সদস্য কে বি কৃষ্ণমূর্তি, মান্ডিয়া থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী এস টি জয়রামের ছেলে অশোক জয়রাম এবং প্রাক্তন আইআরএস অফিসার লক্ষ্মী অশ্বিন গৌড়াও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এঁরা দুজনই জনতা দলের (সেকুলার) সদস্য ছিলেন।

গত ২০১৯ সালে ঘুরপথে 'অপারেশন লোটাস'-এর মাধ্যমে এক ডজনেরও বেশি নেতাকে বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করে কর্ণাটকে ক্ষমতা দখল করে কংগ্রেস৷ বর্তমানে কংগ্রেস এবং জেডি(এস) থেকে আরও নেতাদের আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত বিজেপি৷

বিজেপি অনুগতদের বক্তব্য অনুসারে, অনেক নেতা, যারা বিজেপিতে এসেছেন, তারা প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করেছিলেন এবং তাদের ভিডিওগুলি এখনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে পাওয়া যায়। বিজেপির অনুগতরা এই ঘটনায় তাদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলছেন, এবার এইসব নেতৃত্বের জন্যও তাদের কাজ করতে হবে।

উপকূলীয় কর্ণাটকের এক প্রভাবশালী নেতা প্রমোদ মাধওয়ারাজকে অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপকে কংগ্রেসের জন্য একটি ধাক্কা হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় কংগ্রেস কর্মীরা ক্ষুব্ধ।

বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান বাসভরাজ হোরাত্তির অন্তর্ভুক্তি ইতিমধ্যেই উত্তর কর্ণাটকের বিজেপি নেতাদের মধ্যে বিতণ্ডা শুরু করেছে। এখন দলের নেতাকর্মীরা নেতাদের প্রশ্ন করছেন, যদি দলের বাইরের নেতৃত্বই নেতাদের পছন্দ হয় তাহলে তাঁরা কেন দলীয় আদর্শের জন্য লড়াই করবেন এবং ঝুঁকি নেবেন?

দলীয় কর্মীরা এই বলে এই পদক্ষেপকে উপহাস করছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেস মুক্ত ভারত বলতে একথা বলতে চাননি যে বিজেপি তাদের অনুগতদের দূরে সরিয়ে রেখে কংগ্রেস নেতাদের দলে আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করেছে।

দলীয় সূত্র অনুসারে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে যে কোনো মূল্যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চায়। কারণ কর্ণাটকে বিজেপি এখনও পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ছবি প্রতীকী
Karnataka: ২৫০০ কোটির বিনিময়ে মুখ্যমন্ত্রীত্বের প্রস্তাব - বিজেপি বিধায়কের অভিযোগে উত্তাল কর্ণাটক

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.