বাতিল হওয়া নীট-এর পুনঃপরীক্ষার আগে দেশে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হল টেলিগ্রাম। নিট ইউজি ২০২৬ পুনঃপরীক্ষার আগে ফের যখন প্রশ্নফাঁসের গুজবকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে তখনই সাময়িক ভাবে এই অ্যাপ বন্ধ রাখবার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, টেলিগ্রাম চ্যানেলে অনেক পড়ুয়াই নাকি ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র শেয়ার করেছে। চলতি বছরের ৩ মে এনটিএ NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষা পরিচালনা করেছিল। পরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় ১২ মে সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বর্তমানে সিবিআই গোটা ঘটনার তদন্ত করছে। আগামী ২১ জুন এই পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
আসন্ন নীট পুনঃপরীক্ষা প্রসঙ্গে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক দুটি আলাদা আলাদা নির্দেশিকা জারি করেছে। যার প্রথমটিতে আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রাম অ্যাপ-এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দ্বিতীয় নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামে এখনও পর্যন্ত যা মেসেজ ভারতে পোষ্ট হয়েছে তা এডিট করার সুবিধা বন্ধ রাখতে হবে।
এনটিএ-র মতে সাইবার জালিয়াতি ও প্রতারণা চক্র কর্তৃক বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেল ব্যবহৃত হচ্ছে এই অভিযোগ ওঠার পর টানা কয়েকমাস ধরে তা খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং নজরদারি চালানো হয়েছে। এরপরেই এই অ্যাপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম বারের নিট পরীক্ষা বাতিলের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল হয়েছিল দেশ।
গত ৮ জুন বিজনেস টুডে-র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল ভারতের সবচেয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতাভুক্ত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যারা তৈরি করেছেন তাঁরা বর্তমানে একটি সুরক্ষিত জায়গায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন; তাঁদের কাছে কোনো ফোন বা ইন্টারনেট সংযোগ নেই এবং বাইরের জগতের সাথেও কোনো যোগাযোগ রাখতে দেওয়া হয়নি। ২১ জুন পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই থাকবেন বলেও জানিয়েছিল ওই প্রতিবেদন।
NEET-UG ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষার আগে এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধিকারিকরা কোনো জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য এযাবৎকালের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠা, ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর মে মাসে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়। এর পরেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন