TET Scam: প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার নামে ১৯.৫ কোটি টাকা তুলেছেন যুব তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক!

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাপস মণ্ডল বলেন, ওই যুব তৃণমূল নেতার কথা আগেই সিবিআইকে তিনি জানিয়েছিলেন। তৃণমূল নেতা যে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা তুলেছিলেন, তার তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
কুন্তল ঘোষ
কুন্তল ঘোষছবি - সংগৃহীত

চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বেকার যুবক যুবতীদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা তুলেছেন যুব তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুন্তল ঘোষ। সিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের পর এমনই দাবি করলেন তাপস মণ্ডল, যিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

বুধবার বিকেলে কলকাতায় সিবিআইয়ের দফতরে যান শিক্ষা ব্যবসায়ী তাপস মণ্ডল, নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডির চার্জশীটে যার নাম রয়েছে। সেখানে যুব তৃণমূল নেতার সাথে মুখোমুখি বসিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা জেরা করা হয় তাপস মণ্ডলকে। এরপর দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মানিক-ঘনিষ্ঠ বলেন, ওই যুব তৃণমূল নেতার কথা আগেই সিবিআইকে তিনি জানিয়েছিলেন। তৃণমূল নেতা যে সাড়ে ১৯ কোটি টাকা তুলেছিলেন, তার তথ্যপ্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

তাপস মণ্ডল বলেন, "বহু ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে আমি জানতে পেরেছি ওরা চাকরির জন্য কুন্তল ঘোষকে টাকা দিয়েছিলেন। আগেই একথা সিবিআইকে আমি জানিয়েছিলাম। আজ তার প্রমাণ সিবিআইয়ের হতে তুলে দিয়েছি। সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এর বাইরের অনেক টাকা তুলেছেন উনি। তবে আমি শুধু এটুকুর প্রমাণ পেয়েছি।"

যদিও এই দাবি অস্বীকার করেছেন কুন্তল ঘোষ। তাঁর যুক্তি, যদি এই দাবি সত্যি হয়, তাহলে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার না করে ছেড়ে দিল কেন সিবিআই। তাপস মণ্ডল মিথ্যে অভিযোগ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কে এই কুন্তল ঘোষ, যাঁকে নিয়ে এই মুহূর্তে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে বাংলার রাজনীতিতে? হুগলির বলাগড়ের শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা কুন্তল ঘোষ। গত বছর ৩০ নভেম্বর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। যেখানে রাজ্য যুব তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কুন্তল ঘোষের নাম ঘোষণা করা হয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়,   নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য, তৃণমূলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এঁদের সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার একাধিক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়েছে।

বলাগড়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার নাম করে এলাকার একাধিক যুবকের কাছ থেকে বিপুল টাকা তুলেছেন কুন্তল ঘোষ। শাসক দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে এই নিয়ে অভিযোগও জানানো হয়েছিল। কিন্তু এরপর দাপট আরও বাড়ে তাঁর।

জানা গেছে টাকা তুলে চাকরিপ্রার্থীদের লিস্ট পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মানিক ভট্টাচার্যের কাছে পাঠাতেন তিনি। শুধুমাত্র হুগলি জেলাতেই ৩২৫ জনের কাছ থেকে চাকরির নামে ন্যূনতম ৬ লাখ টাকা করে আদায় করেছেন তিনি। এঁদের অনেকে চাকরিও পেয়েছেন বলে জানা গেছে। সিবিআইয়ের একটি সূত্রের দাবি, প্রায় দেড় হাজার চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা তুলেছিলেন কুন্তল ঘোষ। সিংহভাগই নগদে লেনদেন হয়েছিল। এই টাকার একটা বড় অংশ রাজ্যের শাসকদলের তহবিলে গিয়েছে।

কুন্তল ঘোষ
WB: ২০ হাজার একর সরকারি জমি খোলাবাজারে বিক্রির ছাড়পত্র মমতা সরকারের! সরব CPIM

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in