West Bengal: বিজেপির নীচুতলায় তৃণমূলের কাউকে জায়গা দেওয়া হবে না - আশ্বাস শমীক ভট্টাচার্যর

People's Reporter: বিজেপি রাজ্য সভাপতি শুক্রবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, রাজ্যে বিজেপির নিচুতলায় তৃণমূলীকরণ হবে না। সেখানে যথেচ্ছভাবে তৃণমূল থেকে আগতদের জায়গা দেওয়া হবে না।
শমীক ভট্টাচার্য
শমীক ভট্টাচার্যফাইল ছবি, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ইউটিউব ভিডিও থেকে স্ক্রীনশট
Published on

তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে দলে যোগ দেবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনায় ঘরে বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। যদিও বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শুক্রবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, রাজ্যে বিজেপির নিচুতলায় তৃণমূলীকরণ হবে না। সেখানে যথেচ্ছভাবে তৃণমূল থেকে আগতদের জায়গা দেওয়া হবে না।

শুক্রবার উলুবেড়িয়ায় বিজেপির এক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের সাংগঠনিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় স্তরে যেসব তৃণমূল নেতাদের বিজেপিতে নেওয়া হচ্ছে তার উদ্দেশ্য অন্য। সেক্ষেত্রে সংসদীয় রাজনীতির কথা মাথায় রেখে চলতে হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে দলে নিয়ে তাঁদের রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে ওঠা বিতর্কের পর শমীক ভট্টাচার্যর এই বার্তা দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করার জন্য।

রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে তুমুল বিতর্ক চলছে 'ভালো তৃণমূল' ও 'খারাপ তৃণমূল'। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই বহু তৃণমূল নেতা হত্যে দিয়েছেন বিজেপির দুয়ারে। যদিও কোন মাপকাঠিতে ভালো এবং খারাপের বিচার হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওপরতলা থেকে বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে দলে কাউকে যোগদান করানোর নির্দেশ এলে তা অমান্য করা সম্ভব নয় শমীক ভট্টাচার্যর পক্ষে। কারণ সেক্ষেত্রে জাতীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতার বিষয়টি যুক্ত। তাই 'ভালো' অথবা 'খারাপ'-এর চেয়েও সংখ্যা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপাতত যেসব দলবদলের ঘটনা ঘটছে তা সেই সংখ্যাতত্ব মাথায় রেখেই।

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছিলেন দলে তৃণমূলীদের জায়গা দেওয়া হবে না। যদিও বিগত মাস দুয়েকের মধ্যে তৃণমূলের বহু নেতা কর্মীকেই বিজেপির দরজায় ঘুরতে দেখা গেছে। এদের অনেকেই আবার কোনও কোনও বিজেপি নেতার আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও বৃহস্পতিবারের মত প্রকাশ্যে কোনও তৃণমূল নেতাকে এখনও পর্যন্ত বিজেপিতে জায়গা দেওয়া হয়নি।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হবার একমাসের মধ্যেই দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ অন্যান্য বিষয়ে অভিযোগ তুলে দল এবং সাংসদ পদ ছেড়েছিলেন দীর্ঘদিনের তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। যিনি ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। এর দিন দুয়েকের মধ্যেই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূল ছাড়েন সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। তখনই অনুমান করা হয়েছিল এরা সকলেই পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন। বিশেষ করে তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব দল এবং সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবার পর সরাসরি গেছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বাড়িতে।

শমীক ভট্টাচার্য
TMC: আরও 'একলা' মমতা, তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সোজা বিধানসভায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
শমীক ভট্টাচার্য
Rajya Sabha: বিকেলে বিজেপিতে যোগ, সন্ধ্যেতেই রাজ্যসভার প্রার্থী হয়ে গেলেন তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in