

কালিয়াচকের ঘটনায় ‘মুলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানালো নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, পালানোর চেষ্টা করছিলেন মোফাক্কেরুল ইসলাম। বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে এক সঙ্গী ছিলেন। তাঁকেও পাকড়াও করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু পালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের বলে জানা গেছে।
মোফাক্কেরুল ইসলাম পেশায় আইনজীবী। বুধবার কালিয়াচক ব্লক অফিসে সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাওয়ের ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন তিনি বলে অভিযোগ। অফিসের বাইরে জনতার সামনে তাকে গাড়ির ওপর উঠে বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছিল। উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছিলেন তিনি বলে অভিযোগ ওঠে। তার এই বক্তৃতা দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর থেকেই তাকে খোঁজা শুরু করে পুলিশ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনও মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। অবশেষে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘ভাল থাকুন আপনারা।’ গ্রেফতারের পর ফেসবুকে লাইভও করেন তিনি। জানান, “এসআইআর-এর নাম করে যে সমস্ত মুসলিম ভোটারদের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আন্দোলনে সহযোগিতা করতে গিয়ে অ্যারেস্ট হলাম। যদিও ওই আন্দোলনটা আমি করিনি। আমি ওই সময় কলকাতা থেকে আলিপুরদুয়ার যাচ্ছিলাম। আমাকে বক্তৃতা দিতে বলা হয়। আমার জন্য কোনও বিচারক ঘেরাও হননি। ” যদিও পরে ভিডিওটি ডিলিট করে দেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, পরশু যে ঘটনা ঘটেছে... গতকালও রাস্তা অবরোধ হয়েছে.. সব মিলিয়ে মোট ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে মালদহে। ৩৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। তাছাড়া মোফ্ফাকারুল ইসলাম নামের একজন, পেশায় আইনজীবী, মূলত প্ররোচনা দিচ্ছিলেন, ওর নামে কালিয়াচক থানায় তিনটি কেস হয়েছে, তাকে আজ সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে আটক করেছি। ওর সঙ্গে আর একজন ছিলেন। সম্ভবত, তাঁরা বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিলেন।"
অন্য দিকে, মালদহ কাণ্ডের তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-কে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালেই কলকাতায় এসেছেন এনআইএ-র আইজি সনিয়া সিংহ। তিনি মালদহেও যাবেন।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের মোথাবাড়ী, সুজাপুর সহ বিভিন্ন এলাকা। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের বাইরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। সেইসময় ওই ব্লক অফিসের ভিতরে SIR-এর কাজে নিযুক্ত ছিলেন সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। ব্লক অফিসে তাঁদের ঘেরাও করে রাখা হয়। প্রায় ৮ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর রাত ১২ টার সময় পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।
বিক্ষোভকারীদের পাল্টা অভিযোগ, বিচারকদের উদ্ধারের সময় পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে এবং বিচারকদের কনভয়ের একটি গাড়ি এক আন্দোলনকারীকে ধাক্কা মারে। আহত ওই ব্যক্তি এখন চিকিৎসাধীন।
আরও উল্লেখ্য, ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল বর্তমানে কলকাতায় থাকেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। ইটাহার থেকে প্রার্থীও হয়েছিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন