মালদহের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট! মুখ্যসচিব-ডিজি-জেলাশাসককে শোকজ, শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশ

People's Reporter: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের মোথাবাড়ী, সুজাপুর, কালিয়াচক সহ বিভিন্ন এলাকা।
কালিয়াচকে অবরোধ (বামদিকে)
কালিয়াচকে অবরোধ (বামদিকে)ছবি সংগৃহীত
Published on

মালদহের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার কেউ ঘটনাস্থলে যাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদহের জেলাশাসক এবং এসপির আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। তাঁদের শো কজ করা হয়েছে। কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।

আগামী ৬ এপ্রিল (সোমবার) এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওইদিনের শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি, মালদহের জেলাশাসক এবং এসপিকে। অন্যদিকে মালদহের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের কাছে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের মোথাবাড়ী, সুজাপুর সহ বিভিন্ন এলাকা। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের বাইরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। সেইসময় ওই ব্লক অফিসের ভিতরে SIR-এর কাজে নিযুক্ত ছিলেন সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক। ব্লক অফিসে তাঁদের ঘেরাও করে রাখা হয়। প্রায় ৮ ঘণ্টা ঘেরাও থাকার পর রাত ১২ টার সময় পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।

বিক্ষোভকারীদের পাল্টা অভিযোগ, বিচারকদের উদ্ধারের সময় পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে এবং বিচারকদের কনভয়ের একটি গাড়ি এক আন্দোলনকারীকে ধাক্কা মারে। আহত ওই ব্যক্তি এখন চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবারই এই ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকাতে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি বলেন, "হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি আমরা। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে আমাদের জানানো হয়, মালদাহের কালিয়াচক এলাকায় তিনজন মহিলা সহ মোট সাতজন বিচারককে ঘেরাও করে রেখেছিল দুষ্কৃতীরা। বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে এই ঘেরাও শুরু হয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ১১ টা পর্যন্ত জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপার কেউই ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করতে হয়েছিল। মুখ্য সচিবের সাথে তো যোগাযোগই করা যায়নি।"

তিনি আরও বলেন, "অবশেষে বারোটার পর বিচারকদের মুক্ত করা হয়। কিন্তু মধ্যরাতে মুক্ত হওয়ার পর যখন তাঁরা নিজেদের জায়গায় ফিরছিলেন, তখন তাঁদের গাড়ির উপর পাথর ছোড়া হয়। লাঠি ও বাঁশ দিয়ে হামলা করা হয়।"

তিনি বলেন, "এই ঘটনা শুধু বিচারকদের ভয় দেখানোর একটা স্পষ্ট চেষ্টা নয় বরং এটি আদালতকেও চ্যালেঞ্জ করে। এটি সাধারণ ঘটনা নয়, পরিকল্পিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রদক্ষেপ। যার লক্ষ্য ছিল বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং বাকি থাকা মামলাগুলিতে আপত্তি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া।"

রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, "এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জানাতে হবে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তারা বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেননি? রাজ্যের উচিত ছিল পুরো বিষয়টি কমিশনকে জানানো যাতে কেন্দ্র বাহিনী মোতায়েন করা যায়। সেক্ষেত্রে বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত।" রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি, মালদহের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে শো-কজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

কমিশনকে এই ঘটনার তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সিবিআই কিংবা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করাতে হবে। যেখানে বিচারকরা SIR-এর কাজ করছেন সেখানে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। একসঙ্গে ৫ জনের বেশি ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না। বিচারকদের বাসস্থানেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। কোনও বিচারকের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে যদি আশঙ্কা থাকে, সেক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে, নির্দেশ আদালতের। সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।   

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in