

টিকিট না পেয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দল ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিজের পুরোনো দলে ফিরলেন বাদুড়িয়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক কাজি আব্দুর রহিম (দিলু)। পুরোনো দলে ফিরে তিনি বলেন, 'কিছুদিনের জন্য বাইরে গিয়েছিলাম। এখন ঘরে ফিরে এলাম।'
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তাঁদের মধ্যে আব্দুর রহিমও রয়েছেন। রবিবার সোস্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে তিনি লেখেন, "বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত। আমি আপসের রাজনীতি করিনি কখনও। আর ভবিষ্যতেও করবো না।"
এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার বিকেলে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গে দলের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীরের উপস্থিতিতে কংগ্রেসে ফেরেন তিনি। কংগ্রেস যোগ দিয়ে তিনি বলেন, "খুশীর খবর এটাই যে আমি ঘরে ফিরলাম। কিছুদিনের জন্য বাইরে গিয়েছিলাম। একটি কারণে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম। সেদিন তৃণমূল সুপ্রিমো এবং দলের সিনিয়র নেতারা এমন মহল বানিয়ে দিয়েছিল... বিজেপিও সংকট তৈরি করে দিয়েছিল বাংলায় ২০০ টা সিট আনবে বলে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য তৃণমূলে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমানে তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে কোনও পার্থক্য খুঁজে পাই না। "
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে কংগ্রেসের টিকিটেই বাদুড়িয়া থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন আব্দুর রহিম। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তৃণমূলের টিকিটে লড়ে ফের বিধায়ক হন তিনি। তবে এবার আর টিকিট পাননি। টিকিট না পেয়েই পুরোনো দলে ফিরেছেন। জানা গেছে, বাদুড়িয়া থেকে তাঁকেই প্রার্থী করতে চলেছে কংগ্রেস। সোমবার ২৮৪টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। কিন্তু সেই তালিকায় বাদুড়িয়ার নাম নেই। তাই তাঁকে প্রার্থী করার জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। উল্লেখ্য, আব্দুর রহিমের বাবা কাজি আব্দুল গফ্ফরও দীর্ঘদিন বাদুড়িয়া থেকে কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। উত্তর ২৪ পরগনর রাজনীতিতে আব্দুর রহিমের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন