

দল মনোনয়ন দেয়নি। সেই ক্ষোভে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পুরুলিয়ার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মিনু বাউড়ি। সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই সরাসরি মিনু বাউড়িকে দল থেকে বহিষ্কার করলো তৃণমূল। সম্প্রতি তাঁকে পুরুলিয়া জেলা মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী নিযুক্ত করা হয়েছিল।
যদিও বহিষ্কারের আগেই শনিবার তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বাঘমুন্ডির কুশলডিহি ক্রিকেট মাঠে অমিত শাহ-র সভামঞ্চে মিনু বাউরি দলবদল করেন। মিনু বাউরি বলেন, “তৃণমূলে থেকে কোনও কাজ করা যায় না। একেবারে দমবন্ধ পরিস্থিতি। তাই বিজেপিতে এলাম।“
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই বহিষ্কারের মাধ্যমে শাসক শিবির নিজেদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মিনু বাউরিকে দল থেকে বহিষ্কার করে সকলের কাছেই সেই বার্তা পাঠানো হয়েছে। দলের তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অনুমোদনেই।
পাড়া বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম দাবিদার ছিলেন মিনু বাউরি। তাঁকে বহিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, যা তৃণমূল নেতৃত্ব একেবারেই মেনে নিতে রাজি ছিলনা। বিশেষ করে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো সংবেদনশীল জেলায় ভোটভাগ রুখতে এবারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে দল।
এর পাশাপাশি, গত কয়েক মাস ধরে তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় স্তরে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল। রঘুনাথপুর এলাকায় কল্যাণমূলক তহবিল ও এমজিএনরেগা মজুরি বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ফলে বহিষ্কারকে অনেকেই দলের বৃহত্তর ‘ক্লিন-আপ’ অভিযানের অংশ হিসেবেই দেখছেন।
বিজেপির তরফে বারবার ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে মোকাবিলা করতে তৃণমূল এখন সংগঠনকে ঝকঝকে রাখতে চাইছে। সেই লক্ষ্যেই বিতর্কিত বা অভিযোগে জড়িত নেতাদের সরিয়ে দিয়ে ‘নতুন মুখ’ তুলে ধরার কৌশল নেওয়া হয়েছে। জঙ্গলমহল অঞ্চলে—ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর—বিজেপির বাড়তে থাকা প্রভাব ঠেকাতেও এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে মিনু বাউরি সিপিআইএমে ছিলেন। ২০০৮ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে সিপিআইএমের প্রতীকে জয়ী হয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের কয়েক বছর পর তিনি সিপিআইএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন।
পশ্চিমবঙ্গে মোট বিধানসভা আসন ২৯৪। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোট গ্রহণ। তার আগে শাসকদলের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ৪ মে ফল ঘোষণা। ২০২১ সালের নির্বাচনে ২১৩টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তি বাড়িয়েছিল। এবার বিজেপি ১৭০টি আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন