

বিজেপি-যোগের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হলেন তিনি। তাঁর সাথে তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক রয়েছেন। সম্প্রতি বারাসাত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। একাধিকবার প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে সরবও হয়েছেন তিনি। এই সবের মাঝেই কেন্দ্রের তরফ থেকে ‘ওয়াই' ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বরাদ্দ করা হয়েছে তাঁর জন্য। এই সব কিছু দেখেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল যে এবার বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই জল্পনার মাঝেই শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলেন তিনি, যা তাঁর বিজেপি-যোগের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মঙ্গলবার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে উপস্থিত হন বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এছাড়াও সদ্য নির্বাচিত দেগঙ্গার তৃণমূল বিধায়ক আনিসুর রহমান এবং স্বরূপনগরের তৃণমূল বিধায়ক বীণা মণ্ডলও উপস্থিত ছিলেন।
বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি কেন? এই প্রশ্নের জবাবে তৃণমূল সাংসদ বলেন, এটা কোনও পার্টি মিটিং নয়, প্রশাসনিক বৈঠক আর প্রশাসন সবার! তাই তিনি এসেছেন।
এ বিষয়ে বিজেপি বিধায়করা বলছেন, তৃণমূলের সংস্কৃতি ও বিজেপির সংস্কৃতি আলাদা। কারণ গত ১৫ বছর তৃণমূলের শাসনামলে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের কোনও বিধায়ককে ডাকা হত না। কেবল প্রশাসনিক কর্তারা আসতেন এবং তৃণমূলের বিধায়করা আসতেন।
তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বাড়তি জল্পনা তৈরি করেছে। ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হওয়া এক বৈঠককে কেন্দ্র করে। সেখানে লোকসভার সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের বিরুদ্ধে সরব হন কাকলি। তিনি লেখেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।“
এর কয়েকদিন পরেই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পান তিনি। তাঁকে ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অমিত শাহের মন্ত্রক। এরপর গত রবিবার বারাসাত জেলার তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন তিনি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন