'শ্রীরামপুর নতুন সাংসদ চায়' - পোস্ট করলেন অভিষেকের ভাই, ক্রমশ বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে TMC-র অন্দরে

অভিষেকের ভাই আকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, 'নিজেকে হাস্যস্পদ না করে আশেপাশে ঘটে চলা পরিবর্তন সম্মানের সঙ্গে মেনে নিন।'
'শ্রীরামপুর নতুন সাংসদ চায়' - পোস্ট করলেন অভিষেকের ভাই, ক্রমশ বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে TMC-র অন্দরে
কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় (বামে)ফাইল চিত্র

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কাউকে নেতা মানি না। গোয়া ও ত্রিপুরায় জিতে এলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা বলে মানব। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে তোলপাড় হয়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। তাঁর এই মন্তব্যের বিরোধিতা শুরু হয়েছে দলের অন্দরে।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার এই ইস্যুতে যেভাবে সুর চড়িয়েছেন প্রকাশ্যে, তার জেরে তোপ, পাল্টা তোপে বিতর্ক বাড়ছে, তাতে বিতর্ক অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য উদ্যোগী হয় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ঘটনা নিয়ে পোস্ট হয়েছে। 'শ্রীরামপুর নতুন সাংসদ চায়' এরকম একটি পোস্ট শুক্রবার রাতে শেয়ার করেছেন অভিষেকের ভাই আকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে লিখেছেন, 'নিজেকে হাস্যস্পদ না করে আশেপাশে ঘটে চলা পরিবর্তন সম্মানের সঙ্গে মেনে নিন।' পোস্টে নামের উল্লেখ না থাকলেও কাকে উদ্দেশ্য করে পোস্টটি শেয়ার করেছেন আকাশবাবু, তা স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অন্যদিকে শুক্রবারই ফেসবুকে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কবি শ্রীজাতর একটি লেখা শেয়ার করেন তিনি, 'মানুষ থেকেই মানুষ আসে, বিরুদ্ধতার ভিড় বাড়ায় / আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ তফাৎ শুধু শিরদাঁড়ায়'। অপরূপা দাবি করেছিলেন, লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দিতে হবে। পাশাপাশি বলেন, 'যদি ঘরশত্রু বিভীষণ নিয়ে বাস করতে হয় তাহলে আদতে তা দলের সমস্যা।’

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন জেলার চার লোকসভার সাংসদ, জেলাশাসক-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। বৈঠকের পর বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে সবরকম ধর্মীয় ও সামাজিক জমায়েত, মিটিং-মিছিল ও নির্বাচন বন্ধ রাখা হোক বলে মত দেন অভিষেক। সঙ্গে এও বলেন যে, এটি সম্পূর্ণ ভাবে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত।

কিন্তু অভিষেকের এই মন্তব্যকে মানতে পারেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কাউকে নেতা মানি না। যে যার পদে আছে, সেই পদকে সম্মান করি। কিন্তু নেতা বলে মানি না।’ পাশাপাশি অভিষেককে উদ্দেশ্য করে কল্যাণের কটাক্ষ, ‘অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ত্রিপুরা আর গোয়ায় জিতিয়ে দেখাতে পারলে ওঁকে নেতা বলে মানব!’

কল্যাণ এও বলেছিলেন, ‘দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদটি সর্বক্ষণের। তাই এই পদে যিনি বসেন, তাঁর ব্যক্তিগত মত থাকতে পারে না। আমারও ব্যক্তিগত মত আছে অনেক বিষয়েই। দলীয় শৃঙ্খলার কারণেই তা প্রকাশ্যে বলি না।’

কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় (বামে)
অভিষেক যদি ত্রিপুরা আর গোয়া জিতিয়ে দেখাতে পারেন, তাহলে ওঁকে নেতা বলে মেনে নেব: কল্যাণ

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in