"দালালির ১৭ লাখ টাকা এখনও পাইনি" - মাদুরদহের ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে নতুন অভিযোগ পার্থর বিরুদ্ধে

অভিযোগকারীর নাম মেকাইল আনসারি। দক্ষিণ কলকাতার মাদুরদহে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু মেকাইলের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনার পর দালালি বাবদ ১৭ লাখ টাকা তাঁকে দেননি।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়
পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়গ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে ইতিমধ্যেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের হেফাজতে রয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। এরই মাঝে পার্থর বিরুদ্ধে উঠে এল ফ্ল্যাটবাড়ি কেনার জন্য দালালির ১৭ লাখ টাকা না দেওয়ার অভিযোগ।

অভিযোগকারীর নাম মেকাইল আনসারি। তাঁর অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার মাদুরদহে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ফ্ল্যাট কেনার পর দালালি বাবদ ১৭ লাখ টাকা তাঁকে দেননি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, ফ্ল্যাটটি কেনার আগে-পরে বহুবার পার্থর সাথে অর্পিতাকে দেখা গেছে বলেও দাবি মেকাইলের। এমনকি ফ্ল্যাটটি কেনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অর্পিতাও। ২০১৩ সালে ওই ফ্ল্যাটবাড়িটির রেজিস্ট্রি হয়েছিল। দাম ধার্য হয়েছিল ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

মেকাইল বর্তমানে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে থাকেন। সেখানে ছোট একটি রেডিমেড পোশাকের দোকান খুলেছেন। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি জমি-বাড়ির দালালির কাজ করছেন। তাঁর বক্তব্য, দালালিতে রোজগার ভালো হলেও ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এই পেশা ছেড়ে দেন তিনি। হুমকির চোটে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু হঠাৎ হুমকি কেন? মেকাইলের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদুরদহের সেই ফ্ল্যাটটিই হুমকির কারণ। তাঁর বক্তব্য, "আমার মারফত ডিল হয়েছিল ফ্ল্যাটটির। আমার মাধ্যমে দামও ঠিক হয়েছিল। বাড়ির মালিক প্রথমে দু’কোটি টাকা চেয়েছিলেন। দরাদরির পর তা এক কোটি ৭০ লাখ টাকায় নামে। শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকায় কেনা হয় ওই বাড়ি।"

ফ্ল্যাটবাড়ি কেনার বিষয়ে ঠিক কীভাবে পার্থ-অর্পিতার সাথে আলাপ হয়েছিল মেকাইলের? এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মেকাইল জানান, "২০১১ সালের শেষ দিকে পার্থ স্যারের সঙ্গে প্রথম বার দেখা হয়েছিল। ২০১২-১৩ সাল নাগাদ পার্থ স্যার আমাকে বলেন, তিনি একটা ফ্ল্যাট খুঁজছেন। আমাকে ফ্ল্যাট দেখে দেওয়ার জন্যও বলেন। মহম্মদ নিয়াজের একটা জমি ছিল মাদুরদহে। সেখানে ফ্ল্যাটবাড়ির কাজও চলছিল। এক দিন পার্থ স্যারকে ডেকে এনে দেখালাম। ওঁর সঙ্গে অর্পিতা ম্যাডামও ছিলেন। প্রথমে পার্থ স্যার জানান, তিনি ফ্ল্যাটবাড়ির একটি তলা কিনবেন। পরে পুরো ফ্ল্যাটবাড়িটাই কেনার কথা হয়। এই সবকিছুর জন্য আমি ১৭ লাখ টাকা চেয়েছিলাম। দালালি বাবদ। সেই টাকাটাই আর পাইনি।"

মেকাইলের আরও দাবি, "আমাকে পার্থ স্যার বলেছিলেন একটু দাম কমিয়ে দিতে, তাতে আমারই ভাল হবে। স্যারের কথা শুনে আমি একটু কমাই। প্রথমেই এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে দেন পার্থ স্যার। পরে বাকি সাত লাখ। তবে সেটার জন্য অনেক ঘুরিয়েছিলেন। কালঘাম ছুটে গিয়েছিল। কিন্তু আমার ১৭ লাখ টাকা আর দেননি।"

বারবার চেয়েও দালালির ১৭ লাখ টাকা পাননি মেকাইল। বরং অপরিচিত নম্বর থেকে ফোনে একের পর এক হুমকি আসত তাঁর কাছে। মেকাইল বলেছেন, "পার্থ স্যার আর অর্পিতা ম্যাডামকে ফোন করে জানিয়েছিলাম। ওঁরা আমার ফোন ধরতেন না। এক দিন পার্থ স্যারকে বলায় উনি রেগে বলেন, 'ভিটেমাটি ছাড়া করব।' তারপর হাত-পা ধরে ক্ষমা চাই। ওই ঘটনার পরেও টাকা চেয়েছি একাধিক বার, পাইনি। উল্টে হুমকি আসতে থাকে। শেষ পর্যন্ত হুমকির জন্যই কলকাতা ছেড়ে চলে যাই ডোমকলে।"

পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়
CSC: 'পার্থ - দীপকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন'- মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি কলেজ চাকরীপ্রার্থীদের

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in