নদীয়াতে 'পার্থ ঘনিষ্ঠ' অধ্যাপক মোনালিসা দাসের দাদার নামে একাধিক জমি! তদন্তে সিবিআই

সূত্রের খবর, রানাঘাট ২ নম্বর ব্লকের একাধিক জায়গা থেকে মোনালিসার দাদার নামে জমির হদিশ মিলেছে। ভূমিরাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকেরা সিবিআই তল্লাশির কোথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন।
পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মোনালিসা দাস
পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মোনালিসা দাস গ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অধ্যাপক মোনালিসা দাসের দাদা মানস দাসের বিপুল সম্পত্তির সন্ধান পেল সিবিআই। নদীয়া জেলার রানাঘাটের একাধিক জায়গায় মানসের নামে জমির খোঁজ মিলেছে বলেই জানা যাচ্ছে।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে জেলে আছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর একাধিক ঘনিষ্ঠের সন্ধান চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকেরা। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন দু’জন পার্থ ঘনিষ্ঠ মিডলম্যান। এবার সিবিআইয়ের নজর মোনালিসা দাসের দাদা মানস দাসের সম্পত্তির ওপর। সূত্রের খবর, রানাঘাট ২ নম্বর ব্লকের একাধিক জায়গা থেকে মোনালিসার দাদার নামে জমির হদিশ মিলেছে। ভূমিরাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকেরা সিবিআই তল্লাশির কোথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাটি বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখেছে। বহু নথি সাথে করে নিয়েও গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মানস ও তাঁর এক সঙ্গী নিজেদের পার্থ ঘনিষ্ঠ বলেই দাবি করতেন। প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে একাধিক জমি দখল করেছে তাঁরা। হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার কাছের লোক হওয়ার জন্য অনেকেই সাহস পেতেন না তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে।

সিবিআই সূত্রে যানা যাচ্ছে, পায়রাডাঙায় দু’জনের নামে একাধিক জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। ঐ ব্যক্তিদের সাথে পার্থর যোগ থাকলেও থাকতে পারে। সেই জন্যই মঙ্গলবার রানাঘাটের রেজিস্ট্রি অফিসে যায় আধিকারিকেরা। ঐ অফিস থেকে প্রায় ১০ টি জমির নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। শনিবার রানাঘাটের ডিরেক্টরেট অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড স্ট্যাম্প রেভিনিউ অফিসে যান আধিকারিকেরা। সেখান থেকেও বহু জরুরী নথি বাজেয়াপ্ত করে সিবিআই। বাজেয়াপ্ত করা জমির কাগজের মধ্যে মানস দাসের নাম পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, অর্পিতার মতই মোনালিসাও পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ২০১৪ সালে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন মোনালিসা। বর্তমানে সেখানকার বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তিনি। শুধু তাই নয়, কলেজ নিয়োগের দুর্নীতির সাথে মোনালিসা যুক্ত বলেও অভিযোগ করছেন কলেজ চাকরি প্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, 'প্রভাব খাটিয়ে কম যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের কলেজ সার্ভিস কমিশনের (CSC) মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দিতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অধ্যাপক বান্ধবী মোনালিসা দাস।'

পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মোনালিসা দাস
SSC Scam: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার পার্থ-ঘনিষ্ঠ আরও এক মধ্যস্থতাকারী

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in