'বেআইনি নিয়োগের অপচেষ্টা বানচাল হওয়ায় এখন বামেদের দায়ী করা হচ্ছে' - তৃণমূলকে নিশানা সেলিমের

সমাবেশ মঞ্চ থেকে সেলিম বলেন, যারা শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি করছে, তারাই এখন অপপ্রচার করে বলছে বামপন্থীরা নাকি নিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সিটুর সভায় মহঃ সেলিম
সিটুর সভায় মহঃ সেলিম ছবি - নিজস্ব

পরিবর্তনের নাম করে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজ্যে লুট চলছে। আর এসব নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বন্ধ করতে মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগানোর নির্দেশ জারি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইটিইউ-র সমাবেশ থেকে এভাবেই তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।

বৃহস্পতিবার দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন সংলগ্ন একটি মাঠে সিআইটিইউ-র উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহম্মদ সেলিম, সিআইটিইউ-র রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহু, রাজ্য সভাপতি সুভাষ মুখার্জী, জেলা সম্পাদক গার্গী চ্যাটার্জী, অভ্যর্থনা কমিটির সম্পাদক রানা গুপ্ত সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন নেপালদেব ভট্টাচার্য।

এদিন সমাবেশ মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারের লাগামহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে সেলিম বলেন, যারা শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি করছে, তারাই এখন অপপ্রচার করে বলছে বামপন্থীরা নাকি নিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আসলে মুখ্যমন্ত্রী এবং আরএসএস একত্রে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতিকে ধামাচাপা দিতে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত শিক্ষক পদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সিপিআই(এম) নেতা বলেন, এভাবে অতিরিক্ত পদ তৈরী করে নিয়োগ দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু সেই চেষ্টা হাইকোর্ট বানচাল করে দিয়েছে। বেআইনি নিয়োগের অপচেষ্টা বানচাল হওয়ায় এখন বামেদের দায়ী করা হচ্ছে।

সিপিআই(এম) নেতার কথায়, তৃণমূল এবং বিজেপির যেসব নেতারা এত দিন রাজ্যের বিভিন্ন টোল আদায় থেকে বেআইনি পাচার, লটারি কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থেকেছে তারাই মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। চিটফান্ড থেকে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি কায়েম করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারিদের ন্যায্য দাবিতে বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশের কামড়, আঁচড়, লাথি, ঘুষি খেতে হচ্ছে! এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই ধর্মঘট, সভা, মিছিল বন্ধের হুমকি দিচ্ছে।

একইভাবে বিজেপিকে তুলোধনা করে সেলিম বলেন, মন্দির-মসজিদ নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি ছড়িয়ে উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার চক্রান্ত চলছে। সিআইটিইউ জন্মলগ্ন থেকে মানুষের অধিকার, কাজের পরিবেশ, ন্যূনতম মজুরি, সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশনের জন্য লড়াই করছে। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার এসব চায় না। তাই লাল ঝান্ডাকে মজবুত করতে শ্রমজীবী মানুষকে আরও ঐক্যবদ্ধ করতেই হবে।

সিটুর সভায় মহঃ সেলিম
ঢেকুর তুললেই চুরি, দুর্নীতির গন্ধ বের হয় - নাম না করে শুভেন্দুকে তীব্র কটাক্ষ মীনাক্ষীর
সিটুর সভায় মহঃ সেলিম
উপাচার্যের ইস্তফার দাবিতে রণক্ষেত্র বিশ্বভারতী, পড়ুয়াদের সাথে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষে রক্তাক্ত ২

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in