"জনগণের পঞ্চায়েত, জনগণের হাতে ফিরিয়ে দাও" - শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ নির্বাচনে আশাবাদী বামেরা

নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন ও তার পরবর্তী সময়ে শাসক দলের তরফে যাতে কোনওরকম অশান্তিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাল CPI(M)।
"জনগণের পঞ্চায়েত, জনগণের হাতে ফিরিয়ে দাও" - শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ নির্বাচনে আশাবাদী বামেরা
প্রতীকী ছবি

"জনগণের পঞ্চায়েত, জনগণের হাতে ফিরিয়ে দাও" - এই স্লোগানকে সামনে রেখেই শিলিগুড়িতে জোরকদমে নির্বাচনী প্রচার সারছে বামেরা। আগামী ২৬ জুন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের নির্বাচন।

আজ ২৪ জুন পর্যন্ত চলবে নির্বাচনী প্রচার। এতটুকুও সময় নষ্ট করতে নারাজ বামফ্রন্ট নেতা কর্মীরা। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই শেষলগ্নের প্রচার সারছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার বাগডোগরাতে সিপিআইএম দার্জিলিং জেলা সম্পাদক সমন পাঠকের নেতৃত্বে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ত্রিস্তরের প্রার্থীদের সামনে রেখে একটি বিশাল মিছিল করা হয়। এই মিছিলকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বতস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা গেছে। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জীবেশ সরকার সহ স্থানীয় নেতৃত্ব।

বুধবার আঠারোখাই বালাসন কলোনিতে নির্বাচনী প্রচার উপলক্ষে একটি পদযাত্রা হয় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিপিআই(এম) নেতা অশোক ভট্টাচার্জের নেতৃত্বে। সিপিআইএমের দাবি, শাসকদলের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে বালাসন এলাকার মানুষজন সেদিনের পদযাত্রায় পা মিলিয়েছিলেন। আসন্ন ত্রিস্তরীয় নির্বাচনে গ্রামের মানুষ অতীতের মতই পুনরায় বামপন্থীদেরই জয়ী করবেন বলে আশাবাদী শিলিগুড়ির বাম নেতৃত্ব।

সিপিআইএমের অভিযোগ, গত বেশ কয়েকদিন ধরে শিলিগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় বহিরাগত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁরা বিরোধীদের হুমকি দিচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে যাতে সভা-মিছিল, প্রচার ইত্যাদি না করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মূলত আঠারোখাই, সমরনগর এবং মধ্যপলাশ সহ শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকটি জায়গায় এটা হচ্ছে। সিপিআইএমের অভিযোগ, তৃণমূল বহিরাগতদের এনে অশান্তি করতে চাইছে।

নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন ও তার পরবর্তী সময়ে শাসক দল যাতে কোনওরকম অশান্তিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে গত বুধবার, সিপিআই(এম) দার্জিলিং জেলা কমিটির পক্ষ থেকে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারের কাছে এই বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, স্মারকলিপি জমা নেওয়ার পর বামেদের আশ্বস্ত করে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন যে, নির্বাচন যাতে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষিবলয় থেকে শুরু করে চা বাগান হোক বা বনবস্তি, সীমান্তবর্তী আদিবাসী এলাকা থেকে শহুরে জনপদ সর্বত্র প্রচার চালাচ্ছে বামেরা। এই নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী বাম নেতৃত্ব। পিপলস্ রিপোর্টারের প্রতিনিধিকে সমন পাঠক এই বিষয়ে জানিয়েছেন, "৯০ শতাংশ আসনে আমরা প্রার্থী দিয়েছি। তারমধ্যে কিছু আসনে প্রত্যাহার করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা লড়াইয়ের ময়দানে আছি। কিছু আসনে আমরা নির্দলকে সমর্থন করছি। কিছু আসনে কংগ্রেসকে সমর্থন করেছি।"

"আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালিয়েছি। নিবিড় প্রচার চালাচ্ছি। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম প্রচার করে গেছেন। আমরা ভালো ফলাফলের বিষয়ে আশাবাদী। আমরা শ্লোগান তুলেছি - জনগণের পঞ্চায়েত জনগণের হাতে ফিরিয়ে দাও", জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, "সন্ত্রাসের চেষ্টা বিপক্ষের দিক থেকে করা হবে। তবে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে এবার সমস্ত সন্ত্রাস আমরা রুখবই। আমরা ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে সমস্ত বিষয় জানিয়েছি। কিন্তু আমাদের সংগঠনের ওপর আস্থা আছে। এবারের ভোট শান্তিপূর্ণ হবে।"

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in