

ভোটের মুখে দল ছাড়লেন মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক। এবার তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। তাই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দল ছাড়লেন তিনি। দলীয় কার্যালয়ে বসে সাংবাদিকদের সামনেই দল ছাড়ার ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর বিস্ফোরক দাবি, 'জলঙ্গি, ডোমকল এবং রানিনগর - এই তিন আসনেই হারবে তৃণমূল।'
বুধবার রাতে জলঙ্গির কাঁটাবাড়িতে নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন আব্দুর রাজ্জাক। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “এই দলে সততার কোন জায়গা নেই। যারা তোলাবাজি করে টাকা দিতে পারবে তারাই প্রার্থী। মুর্শিদাবাদের তিনটি আসন— জলঙ্গি, ডোমকল, রানিনগরে তৃণমূল হারছে। বাকিটা নির্বাচনের ফলে বুঝতে পারবেন।”
এবার তাঁকে টিকিট না দেওয়ার পিছনে রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুর রাজ্জাক। তাঁর অভিযোগ, ডোমকল মহকুমায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে জলঙ্গি এবং ডোমকলে বহিরাগত প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন সৌমিক হাসান। এবার জলঙ্গিতে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বাবর আলিকে। তৃণমূল প্রার্থী বহিরা়গত, এমন অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলিও এলাকায় প্রচার চালাচ্ছে।
সম্প্রতি জলঙ্গিতে সভা করে নাম না-করে রাজ্জাককে তোপ দেগেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, “তৃণমূল করে কেউ দুর্নীতি করবে, আর তাকেই দল টিকিট দেবে, এমনটা হতে পারে না।” মনে করা হচ্ছে, অভিষেকের এই মন্তব্যের পরই ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন রাজ্জাক। নির্বাচনের ৭ দিন আগে বিদায়ী বিধায়কের দলত্যাগ মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে চাপের মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন তিনি বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে রাজ্জাকের দলত্যাগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, “উনি বিরোধীদের সঙ্গে যোগসাজস রেখে চলছিলেন, এমন খবর দলীয় নেতৃত্বের কাছে ছিল। ওঁর দলত্যাগে দলে কোনও প্রভাব পড়বে না।”
তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “২০২১ সালের ভোটের আগে দলের অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। ভোটের পর উল্টো দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। ভোটের ফলাফলের পর দেখা যাক ওঁর অবস্থান কী হয়।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন