

নির্বাচনের দু’সপ্তাহ আগে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের এক ভিডিও ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। সাংবাদিক বৈঠক করে সেই ভিডিও প্রকাশ করেছে তৃণমূল। বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের ১০০০ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করেছে রাজ্যের শাসকদল।
তৃণমূলের প্রকাশ করা ভিডিওতে হুমায়ুনকেই কেবল দেখা যাচ্ছে। তাঁর সামনে যাঁরা কথা বলছেন তাঁদের দেখা যাচ্ছে না। ভিডিওতে ১০০০ কোটি টাকা চাইতে দেখা যাচ্ছে হুমায়ুনকে। তার মধ্যে ২০০ কোটি টাকা যত দ্রুত সম্ভব মিটিয়ে দেওয়ার দাবি করছেন তিনি। (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি পিপলস্ রিপোর্টার)
১৯ মিনিটের ওই ভিডিয়োতে তারিখ রয়েছে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বরের। ভিডিওতে এক পর্যায়ে হুমায়ুনকে বলতে শোনা গেছে, “আড়ালে যা যা এগ্রিমেন্ট করার করে নিন। কিন্তু আগে আপনার বিরুদ্ধেও বলব।“ তখন প্রশ্নকর্তা বলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে বলবেন?” জবাবে হুমায়ুন বলেন, “বলতে হবে। না হলে তো এই ভোট (মুসলমানদের ভোট) আমার কাছে আসবে না। তা হলে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে দেবে। আমি যতটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বলব, ততটাই বিজেপির বিরুদ্ধে বলব। বিরোধী দলনেতার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।“
হুমায়ুন জানান, শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ২২ তারিখের (ডিসেম্বর) পর দিল্লী যেতে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার জন্য। তিনি জানান, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তাঁর সাথে যোগাযোগ রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক আধিকারিকও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
ভিডিওর এক পর্যায়ে হুমায়ুনের উল্টোদিকের ব্যক্তি বলেন, “এই মুসলিমদের তো আপনাকে বিপথে চালিত করতে হবে।“ উত্তরে হুমায়ুন জানান, “হ্যাঁ”। প্রশ্নকর্তা বলেন, “এক পর্যায়ে গিয়ে বোকাও বানাতে হবে।“ হুমায়ুন বলেন, “বানাতে হবে।… আমার টাকা দরকার। মুসলিমদের এককাট্টা করার জন্য, ভোটে তাদের আমাদের দিকে আনার জন্য এক একটা সিটে ৩-৪ কোটি খরচ হবে।“ প্রশ্নকর্তা বলেন, “আপনার লক্ষ্যপূরণ করার জন্য মোট কত টাকা লাগবে?” হুমায়ুন জানান তাঁর ১০০০ কোটি টাকা লাগবে।
কীভাবে এই ১০০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা পরিবারপিছু আগাম দিয়ে দেবেন তিনি। তাঁর কথায়, নিচুতলায় ঘরে ঘরে টাকা পৌঁছে গেলে, কেউ বেইমানি করবে না। যত দ্রুত সম্ভব ২০০ কোটি টাকা দিয়ে দিতে বলেন তিনি।
হুমায়ুন স্পষ্ট দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনও ভাবেই ক্ষমতায় আসতে দেবেন না তিনি। ভোটের পরে বিজেপিকে সমর্থন করবেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে এই ভিডিও প্রকাশ করে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “ভিডিয়ো শুনলেন! কী ভাবে মুসলিম ধর্মকে বিক্রি করছে এই কুলাঙ্গার। মসজিদের নামে ভাবাবেগ সওদা করছে। । আমরা যাঁরা মুসলিম সমাজের মানুষ, আমরা কি বুদ্ধিহীন, যে আমাদের ধর্মীয় আবেগ বিক্রি করে দেবে, তার পরেও আমরা চুপ করে থাকব? আমার এই প্রশ্ন মুসলিম সমাজের কাছে রইল।“
অরূপ বিশ্বাস বলেন, “বিজেপি ভোটের আগেই হেরে গিয়েছে। বাংলাকে এতভাবে বঞ্চনা করে, এসআইআর করে লাভ হল না। বিজেপি এখন নেমেছে টাকা দিয়ে ‘বি’ টিম তৈরি করে মানুষের ভোট কিনতে।“
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন