রাজ্যে ভোটের মুখে আবারও দলবদল করলেন প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস। একসময়ের তৃণমূলের বিধায়ক এর আগে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। রবিবার বসিরহাট জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি ফের তিনি তৃণমূলে ফিরে এলেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে পরপর তিন দিনে সিপিআইএম এবং বিজেপির ঘর ভাঙলো তৃণমূল। গতকাল শনিবারই সিপিআইএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন দলের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক-উর রহমান। শুক্রবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা।
২০২১ বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন দীপ্তেন্দু বিশ্বাস। তার আগে ২০১৬ সালে তিনি বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। ২০২১-এ ভোটের মুখে তিনি বিজেপিতে যোগ দিলেও বিজেপি তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি। এরপর থেকেই তিনি তৃণমূলে ফেরার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
রবিবার ফের নিজের পুরোনো দলে ফিরে দীপ্তেন্দু বিশ্বাস বলেন, আমি গত কয়েক বছর ধরেই তৃণমূলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থাকবার চেষ্টা করেছি। আমি উন্নয়নের সঙ্গে থাকতে চাই। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বসিরহাঁটে উন্নয়ন করেছেন তার সাথী হতেই তৃণমূলে ফেরা। ভুল তো হতেই পারে মানুষের। তৃণমূলে যোগ দেবার পরে তিনি জানিয়েছেন, আগামীদিনে দল যে দায়িত্ব দেবে তা পালন করব।
২০২১-এ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল ছেড়েছিলেন দীপেন্দু বিশ্বাস। তৃণমূলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভে তিনি দল ছাড়েন। এদিনও ফের দলবদলের পর দীপেন্দু জানিয়েছেন, বিজেপি তো আমি করিইনি। অভিমানে চলে গেছিলাম। আমাকে কি কেউ বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে দেখেছে?
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যর কাছে ১,৫৮৬ ভোট পরাজিত হন দীপেন্দু বিশ্বাস। এরপর ২০১৬ সালে একই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি শমীক ভট্টাচার্যকে ২৪,০৫৮ ভোটে পরাজিত করেন। যদিও ২০২১ সালে ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল মনোনয়ন দেয় সপ্তর্ষি ব্যানার্জিকে। তৃণমূলের মনোনয়ন না পেয়ে তড়িঘড়ি দল ছাড়েন দীপেন্দু বিশ্বাস। যদিও বিজেপিও তাঁকে মনোনয়ন না দিয়ে তারক নাথ ঘোষকে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রার্থী করে। ২০২১-এর নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী ২৪,৪৬৮ ব্যবধানে জয়ী হন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন