‘চোর চোর স্লোগান তুলে কানে তালা লাগিয়ে দিতে হবে ওদের’ - বহরমপুরের মিছিল থেকে আক্রমণাত্মক সেলিম

জনসমাবেশ থেকে সেলিম বলেন, “আমরা দিদিকে ছাড়ব না, মোদীকে ছাড়ব না, ইডিকেও ছাড়ব না। সব চোরদের জেলে ভরা না পর্যন্ত আমাদের মিছিল চলবে। চোর চোর স্লোগান তুলে কানে তালা লাগিয়ে দিতে হবে ওদের।”
মহঃ সেলিম
মহঃ সেলিম গ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন
Published on

আবারও তৃণমূল-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার, সিপিআই(এম) মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির ডাকে বহরমপুরে মহামিছিল এবং সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।

বহরমপুরের এফইউসি থেকে মিছিল শুরু হয়ে টেক্সটাইল মোড়ে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে মিছিল শেষে সমাবেশ হয়। মহম্মদ সেলিম ছাড়াও এদিন সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং সিপিআই(এম) মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সম্পাদক জামির মোল্লা।

জনসমাবেশ থেকে সেলিম বলেন, “আমরা দিদিকে ছাড়ব না, মোদীকে ছাড়ব না, ইডিকেও ছাড়ব না। সব চোরদের জেলে ভরা না পর্যন্ত আমাদের মিছিল চলবে। চোর চোর স্লোগান তুলে কানে তালা লাগিয়ে দিতে হবে ওদের। সিপিআই(এম)-র পক্ষ থেকে পাহারায় পাবলিক কর্মসূচী ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এমনকি তৃণমূল নেতারা তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে লুঠের তথ্য দিচ্ছেন। সব চোরদের তালিকা প্রকাশ হবে। তৃণমূল আর বিজেপি যদি ভেবে থাকে মানুষকে হিন্দু-মুসলিমে ভাগ করে দুর্নীতি চাপা দেবে, তা হবে না।”

এদিনের সমাবেশ থেকে গ্রামীণ অঞ্চলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টাকার হিসেব প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান সেলিম। তাঁর কথায়, “বিডিও-দের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখনই গ্রামসভা করতে হবে। মমতা ব্যানার্জী জোর করে গ্রামসভা তুলে দিলে মানুষই গ্রামসভা বসাবে। টাকা পয়সা লুঠের বিচার হবে।”

মমতা ব্যানার্জীর 'খেলা হবে' স্লোগানকে তীব্র কটাক্ষ করে সিপিআই(এম) নেতা বলেন, একদিকে লুঠ চলছে, অন্যদিকে প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী চুপ। আগে বলত, 'এত দাম খাব কী?' এখন আর বলে না। এখন বলছে, 'এত টাকা, এত সোনা, রাখব কোথায়?' সেই জন্যই বঙ্গে 'খেলা হবে' বলে দুবাই পাড়ি দিয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জী।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারগুলির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মানুষের লড়াইয়ের জোর না থাকলে রাজ্য পুলিশ হোক বা কেন্দ্রীয় এজেন্সি চোরেরা শাস্তি পাবে না। তাঁর বক্তব্য, “এ রাজ্যের পুলিশ চুরি না ধরে চোরদের পাহারা দিচ্ছে। আর বিজেপি চোর ধরবে? নোটবন্দীর সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে লিস্ট দিয়ে বলেছিলাম চিটফান্ডের টাকা রাজ্যের এক জেলা থেকে আরেক জেলায় পাচার হচ্ছে। কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারীর কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কে কাটমানি, তোলাবাজি, চিটফান্ডের টাকা বদল হয়েছে।”

পাশাপাশি গোরু পাচারে তৃণমূল ও বিজেপির ভূমিকা উল্লেখ করে সেলিম বলেন - মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন এবং বিএসএফ একত্রে বর্ডার নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানেই ঠিক হয় তৃণমূল আর বিজেপির জন্য কখন বর্ডার খুলে দেওয়া হবে। টাইম ম্যানেজ করে অনুব্রত বাহিনী নিজেদের কাজ সারে। শুধু গোরু না, পাচার হচ্ছে মাদক, অস্ত্র।

মহঃ সেলিম
Md Salim: “এ ঘাট সে ঘাট না করে সোজা কালীঘাট যাওয়া উচিত” - অনুব্রতর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মহ: সেলিম

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in