Md Salim: “এ ঘাট সে ঘাট না করে সোজা কালীঘাট যাওয়া উচিত” - অনুব্রতর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মহ: সেলিম

বৃহস্পতিবার দলীয় দপ্তরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি আরও বলেন, ঠিক মতো এফআইআর যাতে হয় দেখতে হবে। এত দেরি মানে তথ্য পাচারের সুযোগ করে দেওয়া।
সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম
সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম নিজস্ব চিত্র
Published on

প্রয়োজনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর মামার বাড়ির গ্রাম ঘেরা উচিত। এ ঘাট সে ঘাট না করে সোজা কালীঘাট যাওয়া উচিত। গোটা দুর্নীতি চক্রের নাটবল্টু অনুব্রত। বাকিটা পিসি ভাইপো। বৃহস্পতিবার কলকাতার আলিমুদ্দিন স্ট্রীটে দলীয় দপ্তরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি আরও বলেন, ঠিক মতো এফআইআর যাতে হয় দেখতে হবে। এত দেরি মানে তথ্য পাচারের সুযোগ করে দেওয়া। উনি যখন দিল্লিতে, তখন ম্যাটাডোর ভর্তি জিনিস পাচার হয়েছে।

তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেপ্তারি সম্পর্কে বলতে গিয়ে এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন, অবশেষে একজন বড় ডন গ্রেফতার। মাফিয়া, চোর ছ্যাঁচড়া, ডাকাতদের সঙ্গী করে লুঠ করেছে শধু তাই নয়। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমান্তরাল প্রশাসন তৈরি করে ডাকাতি চালিয়েছে। কার বিরুদ্ধে গাঁজা কেস দিতে হবে, কাকে গুলি করতে হবে তা ঠিক করে দিয়েছে। পুলিসের সামনে খুন করে দেব, গুলি করে দেব বলেছে। পুলিশ মাথা নেড়ে শুনেছে। এর ফলশ্রুতি বগটুই। বীরভূম জায়গায় জায়গায় বালির খাদন। বালির পাহাড়। জেলা শাসকের হাত বাঁধা। বহু সিপিএম কর্মী খুন হয়েছেন। বাদল শেখ খুন হয়েছেন। একটাও এফআইআর হয়নি। তদন্ত হয়নি। সমস্ত লুঠের টাকা কালীঘাটে পৌঁছেছে। কালীঘাট জড়িত।

এদিন সেলিম বলেন, সিবিআই অনেক দেরি করেছে। আমরা দাবি করছি, ২০০৯ থেকে বীরভূমের সমস্ত ঘটনার তদন্ত হোক। চুরি, জোচ্চুরি, লুঠ, খুন, সমস্ত কিছুর সঠিক তদন্ত হোক। সমান্তরাল সরকার চালিয়েছে। ঘনিষ্ঠতা, হাতে হাত না থাকলে এই অপারেশন চলতে পারে না। আমরা চাই, সমস্ত অপরাধ এক জায়গায় করে তদন্ত করা হোক। রাজ্য সরকার সাহায্য না করলে আমরা বামপন্থীরা সমস্ত ঘটনার অপরাধের তথ্য জোগাড় করে দেব।

সরকারি সংস্থার প্রসঙ্গে অভিযোগ এনে সিপিআইএম নেতা বলেন, ২০১৫ সাল থেকে সমস্ত সরকারি সংস্থাকে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেন্দ্রীয় আমলাদের ডেকে পাঠানো হয়ছে। এর আগেও রাজীব কুমারকে ডাকা হয়েছিল। যে ভাবে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সরকারি আমলারা তাদের শিক্ষা, শপথ নস্যাৎ করে ভয়ে হোক বা উপঢৌকন পাওয়ার আশায় দুর্নীতিতে সামিল হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এটাও সত্যি, সব আমলা সমান নন।

তিনি আরও বলেন, অনুব্রতর বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ আছে, তার সমস্ত তাই শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আছে। মমতা, মুকুল, শুভেন্দু সকলেই একই। হোম সেক্রেটারিকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। বি পি গোপালিকা। শুভেন্দু মন্ত্রী থাকাকালীন উনি শুভেন্দু অধিকারীর পরিবহন দপ্তরের সেক্রেটারি ছিলেন। তাকেও ডাকা হোক। আরও কয়েকজন আইপিএস-কে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আসলে কোনও নোংরা নর্দমা দিয়ে গেলে শুধু নর্দমা দূষিত হয় না। চারপাশটা দূষিত হয়।

এদিন সেলিম বলেন, ইডি সিবিআইকে রাজনৈতিকভাবে কাজ করলে চলবে না। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করতে হবে। না হলে তৃণমূল-বিজেপি থেকে যাতায়াত চলবে। তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের স্বাধীনভাবে কাজ করছে কিনা একমাস আমরা লক্ষ্য রাখবো। তারপর তথ্য নিয়ে আদালতে গিয়ে কড়া নাড়ব।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে এদিন তিনি বলেন, তিনদিন উনি চুপচাপ থাকেন। পঞ্চমদিনে বলেন, আমি জানি না। আমি শুনেছি। দেখা যাক কী করেন অনুব্রতকে নিয়ে। সিপিএমকে গাল দেবেন।

‘চড়াম চড়াম’, ‘গুড় বাতাসা’ শব্দবন্ধ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, এই শব্দগুলি মানুষের কোনো অবস্থান, সমাজ বদলের কথা বলে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কবিতার মতই। চড়াম চড়াম, গুড়, বাতাসা, ...এই সব নিয়ে মিডিয়া ঝাঁপিয়ে পড়ে। মূল ঘটনা হারিয়ে যায়। খেলা হবে বলল না, কিসের খেলা হবে, কে খেলবেন। শুধু মদ। মুরগি হবে। এসব করে হবে না। বেকারের শিক্ষা হবে, বেকারের চাকরী কবে হবে, কিছুই বলে না। খেলার নামে যুদ্ধ হয়, যুদ্ধের নামে খেলা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যে ধরনের তা আত্মকেন্দ্রিকতায় ভরা। তারা নিজেকে ছাড়া কাউকেই ভালোবাসে না। ঘনিষ্ঠ মহলকেও বিশ্বাস করেন না। বিপদে পড়লে কাউকেই বিশ্বাস করেন না। সেই ধরনের মানুষ। সেলফ সেন্ট্রিক। বড় একা। কাউকেই বিশ্বাস করেন না।

অনুব্রত মণ্ডল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন সেলিম বলেন, একজন দেহরক্ষীর একশো কোটি হলে, যে দেহকে তিনি রক্ষা করছেন তার কত? তাজমহল, কুতুব মিনার এর নিচে না দেখে টালির চালের নিচে দেখো। কতটা চোরাই মাল মাল আছে খুঁজে বের করা হোক।

সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম
Md Salim: বিধানসভায় বসে মিথ্যাচার, পিটিশন জমা না দিলে মানহানির মামলা - ব্রাত্যকে হুঁশিয়ারি সেলিমের

SUPPORT PEOPLE'S REPORTER

ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

Related Stories

No stories found.
logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in