

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় ডিম হামলার শিকার হচ্ছিলেন তৃণমূলের নেতারা। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ঘটনায় ডিম হামলা করে মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। এবার সেই হামলা ধেয়ে এলো সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জির দিকেও। মঙ্গলবার কোচবিহারের শীতলখুচিতে উত্তেজিত জনতার ডিম আক্রমণের মুখে পড়লো সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের গাড়ি।
তাঁর গাড়িতে ডিম আক্রমণ চলাকালীন ফেসবুক লাইভ করতে শুরু করেন মীনাক্ষী মুখার্জি। যে ভিডিওতে দেখা যায় তাঁর গাড়ির ওপর মুহুর্মুহু ডিম বৃষ্টি হচ্ছে। ভিডিওতে সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আগে পুলিশ গ্রেপ্তার করুক। তারপর দেখা যাবে। আমার অপরাধটা কী? রাস্তায় কি বেরনো যাবে না?” এই ঘটনায় সরাসরি তিনি বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
এদিনই সকালে কোচবিহারের শীতলখুচিতে দলীয় কর্মী মন্টু মিঞার বাড়িতে সিপিআইএম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গেছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সেখান থেকে ফেরার পথেই তাঁর ওপর এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এদিন মীনাক্ষীর সঙ্গেই ছিলেন সিপিআইএম কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়, সিপিআইএম নেতা অলকেশ দাস প্রমুখ।
রবিবার সকালে শীতলখুচির খুটামারি নদীর ধারে মৃত অবস্থায় সিপিআইএম কর্মী মন্টু মিঞার দেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি গরু কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকালে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান সিপিআইএম প্রতিনিধিদল। যে দলের সদস্য ছিলেন মীনাক্ষী মুখার্জি।
এদিনের ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সিপিআইএম নেত্রী। তিনি বলেন প্রয়োজন হলে নিজের রেকর্ড করা ভিডিও তিনি পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। এদিন কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হলে কোচবিহার ফিরে যান মীনাক্ষী মুখার্জি।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মীনাক্ষী মুখার্জি জানান, গোরক্ষার নাম করে আমাদের কমরেডকে খুন করেছে বিজেপির গুন্ডারা। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেছিলাম। পুলিশের সামনে আমাদের গাড়ির ওপর আক্রমণ হলেও পুলিশ তাদের কোনও বাধা দেয়নি। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইসি-র বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন