

এসআইআর-এ নাম না থাকায় পাসপোর্ট-এর নবীকরণ বাতিল করা হয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক রাজাগোপাল রামদাসের। তাঁর বক্তব্য অনুসারে, এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম না থাকার কারণে তাঁর পাসপোর্টের নবীকরণ আটকে দেওয়া হয়েছে। এবার এই বিষয়ে সরব হলেন সিপিআইএম রাজ্যসভা সাংসদ জন ব্রিটাস। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে চিঠি লিখে তিনি এই বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। ব্রিটাসের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখেছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন।
কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সিপিআইএম সাংসদ জানিয়েছেন, এসআইআর-কে সংবিধান সম্মত আখ্যা দেওয়া হলেও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব স্থির করতে পারবে না। নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা তৈরি করবে। সেক্ষেত্রে কীভাবে একজন নাগরিকের এসআইআর-এ নাম না থাকার কারণে পাসপোর্ট নবীকরণ আটকে দেওয়া হয়? যেখানে তিনি ২০০৬ এবং ২০১৫ সালে পাসপোর্ট পুনর্নবীকরণ করেছিলেন।
জন ব্রিটাস আরও জানিয়েছেন, পাসপোর্ট আইনে নবীকরণ খারিজের নির্দিষ্ট ভিত্তি বলা আছে। তা হল প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন অথবা ভুল কিংবা অসত্য তথ্য দেওয়া। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য কারণে কীভাবে পাসপোর্ট নবীকরণ বাতিল হতে পারে? এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক এক্স বার্তায় (পূর্বতন ট্যুইটার) জন ব্রিটাস জানিয়েছেন, “আজ হয়তো একজন সাংবাদিকের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটছে; আগামীকাল তা যেকোনো নাগরিকের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কেন্দ্রের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পাসপোর্ট ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তা শুধুমাত্র অন্য দেশে যাতায়াতের নথি। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সিপিআইএম রাজ্যসভা সাংসদ জানিয়েছেন, ১৯৬৭-র পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী দেশের এই অন্যতম প্রধান নথি দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। বিভিন্ন নথি দেখিয়ে একাধিক ধাপ অতিক্রম করার পরেও পাওয়া যায় পাসপোর্ট। সেক্ষেত্রে এসআইআর-এ নাম না থাকলে পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে নবীকরণের আবেদন খারিজ করেন। বিশেষ করে যেখানে ওই ব্যক্তি ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিচারবিভাগীয় ট্রাইন্যুনালে আবেদন করেছেন? ব্রিটাসের প্রশ্ন, যেখানে বিতর্কিত এসআইআর-এ লক্ষ লক্ষ আবেদন আটকে রয়েছে তার ভিত্তিতে অন্য সরকারি নথির স্বীকৃতি নির্ভর করে কীভাবে?
এই ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজাগোপাল রামদাস জানিয়েছেন, “নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল যে, এসআইআর (SIR) কেবল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার কাজেই ব্যবহার করা হবে। কিন্তু আদালত এই নীতি বহাল রাখার পরপরই এটি অন্যান্য কাজেও ব্যবহৃত হতে শুরু করে। আমার নিজের ক্ষেত্রে যেমন—পাসপোর্টের বিষয়টি। আবার এসআইআর থেকে নাম বাদ পড়ার কারণে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আমি শুনেছি।”
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন