

বছরের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসে ফিরলেন মৌসম বেনজির নূর। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের উপস্থিতিতে দিল্লির ২৪ নম্বর আকবর রোডে কংগ্রেস সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের পুরনো দলে যোগ দিলেন তিনি। ভোট-মুখী পশ্চিমবঙ্গে এই দলবদল নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
এই যোগদান কর্মসূচীতে জয়রাম রমেশ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং মালদহ উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। মৌসমকে দলে স্বাগত জানিয়ে শুভঙ্কর সরকার বলেন, "এটা ট্রেলার দেখলেন। আমরা জানালা খুলে রেখেছিলাম। এখন দরজা খুলে দিলাম।"
মৌসমের দাদা ইশা খান চৌধুরী বলেন, “ওঁর রক্তে কংগ্রেস রয়েছে। অন্য দলে যাওয়ার ফলে আমাদের পরিবারের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হয়েছিল। আজকে সব বিভাজন ঘুচে গেল।”
ইতিমধ্যেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মৌসম। এই মুহূর্তে রাজ্যসভার সাংসদ পদে রয়েছেন মৌসম। সেখান থেকেও শীঘ্রই ইস্তফা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও রাজ্যসভায় তাঁর মেয়াদ আর কয়েক মাস আছে।
প্রত্যাবর্তনের পর মৌসম বলেন, “আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য কংগ্রেস দলকে ধন্যবাদ জানাই। কংগ্রেস পরিবার ও গণি খান চৌধুরীর পরিবারের সদস্য হিসাবে আমি সম্মানিত। আমরা উত্তরাধিকারকে শক্তিশালী করতে চাই। গণি খান চৌধুরীর উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের একতা দরকার। তাই, আমি কংগ্রেসে ফিরে এসেছি।“
তিনি জানান, “ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছি। তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতাদির কাছে আমার ইস্তফা পাঠিয়ে দিয়েছি। রাজ্যসভার ইস্তফাপত্রও তৈরি। সোমবার জমা দেব। কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করব। বাংলার মানুষ, মালদার মানুষ কংগ্রেসে বিশ্বাস করেন। কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতা, উন্নয়ন ও শান্তির মতাদর্শে বিশ্বাস করেন। গণিখান চৌধুরীও তাতে বিশ্বাস করতেন।"
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন মৌসম নূর। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূলে গিয়েছিলেন তিনি। সাত বছর পর প্রত্যাবর্তন ঘটল তাঁর। শুভেন্দু অধিকারীও বর্তমানে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন