

যোগ দিবসের কর্মসূচিতে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের তরফ থেকে শুক্রবার একথা জানানো হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের এক নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কো-অরডিনেশন কমিটি। যার প্রেক্ষিতে আদালত রাজ্যের কাছে এই বিষয়ে প্রশ্ন করে।
বিষয়টির সূত্রপাত গত ১৪ জুন। যেদিন রাজ্যের বিজেপি সরকারের মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে এক নির্দেশিকা জারি করা হয়। যে নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়, রাজ্য সরকারের সমস্ত স্তরের স্থায়ী, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক, আউটসোর্সড কর্মী এবং সাম্মানিকের বিনিময়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদেরও এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে হবে। এ ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং স্থানীয় সংস্থার কর্মীদেরও যোগ দিবস পালন করতে বলা হয়।
এই নির্দেশিকা চ্যালেঞ্জ করে কর্মচারী সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হবার পর ১৮ জুন আদালত রাজ্য সরকারকে জানায় যে হলফনামা দিয়ে রাজ্যকে জানাতে হবে যে এরকম কোনও নির্দেশিকা জারি করার অধিকার তাদের আছে কিনা। এর পরেই শুক্রবার ১৯ জুন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয় যোগ দিবসের কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, কোনও কর্মচারী ওইদিনের অনুষ্ঠানে যোগ না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা।
শুক্রবার রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আজকে কার্যত ঐতিহাসিক জয় হলো আমাদের। আজকে চূড়ান্ত রায় দানে কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যোগায় অংশগ্রহণে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বাধ্য করা যাবে না। কোন কর্মী অংশগ্রহণ না করতে চাইলে প্রশাসন কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারবে না। এই জয়ের বার্তা নিয়ে সর্বত্র প্রচারে যেতে হবে।”
আগামী রবিবার ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে যোগ দিবসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। যে কর্মসূচিতে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি সূত্র অনুসারে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন