

আধিকারিকদের সরানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। তৃণমূলের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ।
ভোটের মুখে সরকারি আধিকারিকদের অপসারণ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে দুটি মামলা দায়ের করেছিল তৃণমূল। একটি আমলাদের সরানো নিয়ে এবং অন্যটি বিডিও ও থানার ওসি-দের অপসারণ নিয়ে। অপসারণের উপর স্থগিতাদেশের দাবি জানিয়ে ছিল দল। এদিন দুটি মামলাই খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
গত ১৫ মার্চ রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়েছে। ওই রাতেই নজিরবিহীন ভাবে রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের পদ থেকে জগদীশপ্রসাদ মীনাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর একের পর এক আমলা এবং পুলিশকর্তাকে বদলি করেছে কমিশন। এই নিয়ে হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন অর্ক কুমার নাগ নামের এক ব্যক্তি। আবেদনে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে ৪৬ জন আধিকারিককে সরানো হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে, ওই আধিকারিকদের পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা।
গত ২৩ মার্চ মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে ওঠে। মামলাকারীর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে তিনি বলেন, “রাতারাতি আধিকারিকদের অপসারণ করা হয়েছে। মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র সরিয়ে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সমস্যা মুখ্যসচিব দেখছেন। তাঁকে সরিয়ে দিল। স্বরাষ্ট্রসচিব নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁকে শুধু সরিয়েই দেয়নি, অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে।” কমিশন ইচ্ছামতো কাজ করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কমিশনের তরফে পাল্টা বলা হয়েছিল, অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার জন্য এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে।
গত রবিবার এক দিনের মধ্যে রাজ্যের বিডিও এবং বিভিন্ন থানার ওসি-সহ ২৬৭ জন আধিকারিককে অপসারণ করেছে কমিশন। এই নিয়ে সোমবার ফের কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি। তাঁকে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি নিজেই দুটি মামলা খারিজ করে দিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন