

সুজিত বসু, দিলীপ মণ্ডল, উজ্জ্বল বিশ্বাসের পর রাজ্যে গ্রেপ্তার হলেন আরও এক প্রাক্তন মন্ত্রী। দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহকে বুধবার দুপুরে কলকাতার ফুলবাগান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি কলকাতায় গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন।
বুধবারই কলকাতার ফুলবাগান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। পুরোনো একটি মামলার সূত্রে পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পরেই গভীর রাতে সপরিবারে দিনহাটা থেকে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। সূত্র অনুসারে, তার পর থেকে তিনি কলকাতাতেই বিভিন্ন জায়গায় ছিলেন। যদিও প্রকাশ্যে তাঁকে দেখা যায়নি।
কোচবিহারের দিনহাটার তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহের বিরুদ্ধে আবাস যোজনায় কাটমানি, তোলাবাজি, ভোট পরবর্তী হিংসা, দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগ আছে। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পরেই তাঁর বিরুদ্ধে দিনহাটায় বেশ কিছু অভিযোগ দায়ের হয়।
বুধবার উদয়ন গুহের গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ পেতেই দিনহাটায় বিজেপির পক্ষ থেকে উৎসব শুরু হয়ে যায়। বিজেপি নেতা কর্মী সমর্থকরা মিষ্টি খাওয়ান স্থানীয়দের।
সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে সারা রাজ্যের মতই কোচবিহার জেলাতেও ধরাশায়ী হয়েছে তৃণমূল। কোচবিহার জেলার ৯ আসনের মধ্যে একমাত্র সিতাই কেন্দ্রে জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সঙ্গীতা রায়। যিনি বর্তমানে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। ২,৭২১ ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত করেছেন বিজেপি প্রার্থীকে। বাকি ৮ আসনেই জয়ী বিজেপি। দিনহাটা কেন্দ্র থেকে উদয়ন গুহ পরাজিত হয়েছেন ১৭,৪৪৭ ভোটে। এরপর থেকেই শোনা যায় ফলপ্রকাশের দিন গভীর রাতে সপরিবার দিনহাটা ছেড়েছেন উদয়ন গুহ।
একসময়ের ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা উদয়ন গুহ রাজ্যের বাম জমানার মন্ত্রী কমল গুহের ছেলে। ১৯৭৭ থেকে একটানা ২০০১ সাল পর্যন্ত কমল গুহ দিনহাটার ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক ছিলেন। ২০০৬ সালে এই কেন্দ্রে জয়ী হয় তৃণমূল। ২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী হিসেবে উদয়ন গুহ এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। যদিও পরে ফরওয়ার্ড ব্লক ভেঙে তিনি ২০১৫ সালে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে দিনহাটা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হলেও ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ৫৭ ভোটে পরাজিত হন। এরপর উপনির্বাচনে ফের দিনহাটা কেন্দ্র থেকে তিনি ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ভোটে জয়ী হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী হন। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী অজয় রায়ের কাছে তিনি ১৭,৪৪৭ ভোটে পরাজিত হন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন