

প্রায় ১৩ বছর পর জেল থেকে মুক্তির পথে সারদা কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন। কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য পুলিশের দায়ের করা বাকি দুই মামলাতেও তাঁর জামিন মঞ্জুর করায়, আইনি দিক থেকে আর কোনও বাধা রইল না তাঁর মুক্তিতে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বৃহস্পতিবারই তিনি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার থেকে বেরোতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মামলায় মঙ্গলবার শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার সেই রায় প্রকাশ্যে আসে। আদালত শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কিছু আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে মোট ৩৮২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে ৭৬টি মামলার তদন্তভার ছিল সিবিআইয়ের হাতে এবং সেই সব মামলাতেই তিনি আগেই জামিন পেয়েছিলেন। রাজ্য পুলিশের দায়ের করা অধিকাংশ মামলাতেও তিনি মুক্তি পান। কেবল বারাসাত আদালতের অধীন দুই মামলার কারণে এতদিন তাঁর জেলবন্দি থাকা চলছিল। এবার সেই বাধাও কেটে গেল।
জেল থেকেই তিনি ‘প্রিজনার্স পিটিশন’ দাখিল করে আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ ছিল, দীর্ঘ সময় ধরে অনেক মামলায় শুনানি এগোয়নি এবং সব কোর্টে নিয়মিত হাজিরাও নিশ্চিত করা হচ্ছিল না। তিনি ভার্চুয়াল বা সরাসরি উপস্থিতির সুযোগ এবং জামিনের আবেদন জানান। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত সমস্ত মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সিবিআইয়ের কাছ থেকে রিপোর্ট চায়।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অন্তর্গত এবং আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। তাঁর কথায়, জামিন পাওয়া আইনসম্মত অধিকার এবং আদালত সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাশাপাশি, আদালত সারদা সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব নিয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি, বাজার থেকে সংগৃহীত অর্থ এবং আমানতকারীদের পাওনা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে।
২০১৩ সালে সারদা কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর সুদীপ্ত সেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে আত্মগোপন করেছিলেন। সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই তিনি জেলবন্দি। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। পাশাপাশি ইডি ও সেবিও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে সব মামলায় জামিন পাওয়ায় সুদীপ্ত সেনের মুক্তি এখন সময়ের অপেক্ষা। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যে আলোচনা তুঙ্গে, বিশেষ করে ভোটের প্রাক্কালে এই সময়টা হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন