TET Scam: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে এবার 'পার্থ-মানিক' জোড়! ইডির জেরায় প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

টেট দুর্নীতি মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে গতকাল ১৩ ঘণ্টার বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্য
পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্যগ্রাফিক্স - সুমিত্রা নন্দন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ফের প্রকাশ্যে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। এজেন্ট ছড়ানো ছিল রাজ্যজুড়ে এবং তাঁদের বেশিরভাগই ছিল শাসকদল তৃণমূলের লোক। এমনটাই জানা গেছে ইডি সূত্রে। ইতিমধ্যে শুক্রবার মানিক ভট্টাচার্যকে আবার হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

টেট দুর্নীতি মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে গতকাল ১৩ ঘণ্টার বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। এই জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে থেকেই উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ইডি সূত্রের খবর, মানিক ভট্টাচার্য এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায় যৌথভাবে টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চক্র চালিয়েছেন দীর্ঘদিন।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী এবং পর্ষদ সভাপতি একসাথে অপারেশন চালালে সেই দুর্নীতির চেহারা কী হতে পারে তা কল্পনার বাইরে। অথচ সেই দুর্নীতির চক্রেই এবার 'চতুর্ভুজের' সন্ধান পেল ইডি। তাহলে এই চতুর্ভুজের চার ভুজ কারা? এনারা হলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য, অর্পিতা মুখার্জি এবং বীরভূমের নলহাটি -২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বিভাস সাহা।

সূত্রের খবর, বুধবার প্রায় ১৩ ঘণ্টা মানিক ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদে ২০১২ সালের প্রাথমিক টেটে নিয়োগ ও মেধাতালিকা সংক্রান্ত একের পর প্রশ্ন করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত নথি ইতিমধ্যেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে। ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় কতজন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল সরকারের তরফে তা জানানো হয়নি। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে বলা হয়েছিল ৬০০০০ শূন্যপদ রয়েছে। পরীক্ষার্থী ছিল ১৭,৫০,০০০। পর্ষদের কাছে হিসেব ছিল যে কতজন ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছেন। তারপরেও সেই তথ্য গোপন করা হয়েছিল। মেধাতালিকা প্রকাশিত হয়নি অথচ মোবাইলে এসএমএস-র মাধ্যমে ইন্টারভিউ হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, ইডির হাতে উঠে এসেছে পার্থ-মানিকের যৌথ বিনিয়োগের তথ্য। জানা যাচ্ছে - মানিক ভট্টাচার্যের ডান হাত হয়ে টাকা তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেতেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা নলহাটি- ২ নম্বর ব্লক সভাপতি বিভাস সাহা। এমনকি প্রাথমিক টেটের নিয়োগ তালিকাও নিয়ন্ত্রণ করতেন এই ব্যক্তি। কোন জেলা থেকে কত টাকা উঠবে তার সব হিসাব থাকত বিভাসের কাছে। পরবর্তীতে বিভাস আবার পার্থ-ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল বলেই অভিযোগ।

বুধবার সকালে জোকা ইএসআই হাসপাতাল থেকে পার্থ এবং অর্পিতার মেডিকেল টেস্ট করিয়ে আনার পর ফের দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিল ইডি। আর সেই জিজ্ঞাসাবাদের পরই পার্থ এবং অর্পিতার একাধিক সম্পত্তির হদিশ প্রকাশ্যে এসেছে। সাথে উঠে এসেছে টাকা পার্কিং-র একাধিক ঠিকানা। যা শুনে কার্যত বিস্মিত হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, খাস কলকাতা ও শহরতলির লাগোয়া অঞ্চলে বিপুল পরিমাণে নগদ টাকা রাখা হয়েছে। পার্থ এবং অর্পিতাকে আলাদাভাবে জেরা করার পর দুজনের বয়ান মিলিয়ে নিশ্চিত হয়েছে ইডি।

টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার পর গতকাল ফের অর্পিতার বেলঘড়িয়ার ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ২৮ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে ইডি। শুধু তাই নয়, নগদ টাকার পাশাপাশি সোনার বার সহ ৬ কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্য
পার্থকে বহিষ্কারের দাবি তুললেন কুণাল, পুরনো ভিডিও পোস্ট করে কুণালের বিরুদ্ধে সরব দলীয় কর্মীরা

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in