

আর জি কর কান্ডের তদন্তে রাজ্য সরকারকে সাহায্য করতে চান প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ, অধুনা বিক্ষুব্ধ শান্তনু সেন। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন দাপুটে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন জানিয়েছেন, সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া অভয়ার মর্মান্তিক ঘটনা যখন ঘটেছিল সেই সময় আমি কিছু সত্য কথা বলেছিলাম বলে আমাকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের ঠিক দু'দিন আগে গত ২ মে নিজের ফেসবুক পোষ্টে তিনি লিখেছিলেন, "পাঁচ বছর আগে আজকের দিনে All India Trinamool Congress যত আসনে জিতেছিল, ঠিক দুদিন পরে তার থেকেও বেশি আসনে জিতবে।"
আর জি কর কান্ডের সময় মেয়ের মুখ চেয়েই তিনি চুপ ছিলেন বলেও দাবি করেন শান্তনু সেন। বুধবার নিজের ফেসবুক পোষ্টে তিনি লেখেন, "ডা: এস. পি. দাসের নেতৃত্বাধীন উত্তরবঙ্গ লবির আর জি কর সহ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সর্বত্র দুর্নীতির তদন্তে এবং অভয়ার বিচারের স্বার্থে বর্তমান BJP West Bengal সরকার ও তার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী Suvendu Adhikari মহাশয়কে তথ্য প্রমান সহ সব রকম সহযোগিতা করতে আমি সদা প্রস্তুত।"
রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আর জি করের ফাইল যখন আবার খুলছেন তখন আমি ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একজন রাজ্য সম্পাদক হিসেবে এই কথাটা প্রকাশ্যে জানাতে চাই যে এই তদন্তের জন্য যে কোনও সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।
এদিন সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, সেই সময়ের উত্তরবঙ্গ লবির কিংপিন এস পি দাসের দাসত্বে বাংলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা আটকা পড়েছিল। আমি সেই সময় আর জি করে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় বিধায়ক সুদীপ্ত রায় এবং সন্দীপ ঘোষের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির কথা জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিচার পাওয়ার বদলে আমাকেই রোগী কল্যাণ সমিতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৩-এর অক্টোবর মাসে শান্তনু সেনকে আর জি কর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আরজি কর হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদ হারানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন লেখেন, “জীবনে যদি বারবার চোখ নয়, শুধু কান দিয়ে দেখে, একতরফাভাবে শুধু একজনের কথা শুনে কেউ সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ভুল সিদ্ধান্ত হতে বাধ্য।” এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভা নির্বাচনে শান্তনু সেনকে আর মনোনয়ন দেয়নি তৃণমূল।
আর জি কর কাণ্ডে মুখ খোলার পরেই তিনি হারিয়েছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র পদ। দলের অন্দরে কোণঠাসাও হয়ে পড়েছিলেন। এরপর তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেনের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন সরকার। পাশাপাশি শান্তনু সেনের স্ত্রী তথা কাউন্সিলর কাকলি সেনকে কলকাতা পুরসভার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এই মুহূর্তে তৃণমূলের অন্দরে বিক্ষুব্ধ হিসেবে পরিচিত হলেও অতীতে শান্তনু সেনের বিরুদ্ধেও তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালে সিঁথি এলাকার সুমন্ত চৌধুরী নামক এক প্রোমোটর অভিযোগ করেছিলেন তিনি শান্তনু সেনকে ৪০ থেকে ৪২ লক্ষ টাকা তোলা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে ঐ প্রমোটর জানিয়েছিলেন, কাঠা প্রতি দু লক্ষ টাকা করে দিতে হত শান্তনু সেনকে। তাঁর অভিযোগ ছিল, ২০১২ সাল থেকে তিনি তোলার টাকা দিয়ে আসছিলেন। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে পাল্টা দাবি করে শান্তনু সেন ওই প্রোমোটারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, সেই সময় শান্তনু সেন তৃণমূলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন