

ওড়িশায় পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর বারবার আক্রমণের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামলো কলকাতা জেলা বামফ্রন্ট। মঙ্গলবার কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের ডাকে লেনিন সরণীতে উৎকল ভবনের সামনে এক বিক্ষোভ সভায় বাম নেতৃত্ব ওড়িশার সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
ওড়িশায় অতি সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের সুতির শ্রমিক জুয়েল রানার হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। একইভাবে মালকানগিরিতে আক্রান্ত হতে হয়েছে একাধিক উদ্বাস্তু বাঙালি পরিবারকে। অধিকাংশ জায়গাতেই মূলত বাংলাভাষী হবার কারণেই তাঁদের ওপর আক্রমণ নেমে এসেছে। এদিনের সভায় বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ বলেন, আরএসএস-বিজেপির ভয়াবহ বিভাজনের রাজনীতির কারণেই এইসব ঘটনা ঘটছে। এই বিভাজনের রাজনীতি প্রতিহত করতে হবে।
এদিনের সভায় সিপিআইএম কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক কল্লোল মজুমদার বলেন, ওড়িশায় বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই বাংলাভাষীদের বাংলাদেশী বলে দাগিয়ে দিয়ে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আটান্ন বছর থেকে ওড়িশার মালকানগিরিতে রয়েছেন বহু উদ্বাস্তু মানুষ। সেই গ্রামে হামলা চালিয়ে ১২৮টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যে ঘটনায় ঘরছাড়া হতে হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষকে। এদিনের সভা থেকে তিনি বলেন, ওড়িশা সরকারকে এই ঘরছাড়াদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে বিভাজনের রাজনীতি চালাচ্ছে আরএসএস-বিজেপি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের অস্থিরতাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে গরিব শ্রমজীবী বাংলাভাষী মানুষের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনা বিশেষ করে সেই সব রাজ্যে ঘটছে যেখানে বিজেপি সরকারে আছে। অধিকাংশ জায়গাতেই ঘটনার সময় সরকার এবং পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা নিচ্ছে। এই প্রবণতা ভারতের জাতীয় ঐক্য, বহুত্ববাদের পক্ষে বিপজ্জনক। এই বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়াইতে আমরা রাস্তায় আছি।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জি নিজে বাঁচতে আরএসএস-বিজেপির পায়ে ধরছেন। তিনিই আরএসএস-এর কর্মসূচি পালনের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই এখানে সরকারি কোষাগারের টাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে। ধর্মকে তিনি রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করছেন। আমরা এই রাজনীতির বিরুদ্ধে।
এদিনের সভার শেষে ওড়িশা সরকারের কাছে কলকাতা জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে এক স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে এইসব হামলায় জড়িতদের সকলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে এবং এই ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সিপিআই(এম) ছাড়াও সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি নেতৃত্ব এবং কর্মীরা যোগ দেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন