

ন্যায্য পাওনা এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানের দাবিতে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই ধর্মঘটে নামলেন ব্লিঙ্কিট রাইডার্স-এর গিগ শ্রমিকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। এর আগে রানিকুঠির ফ্লিপকার্টের শ্রমিকরাও ধর্মঘটের পথে গিয়ে নিজেদের দাবি আদায় করেছেন।
ব্লিঙ্কিটের শ্রমিকদের মূল অভিযোগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। গত দু’মাস ধরে বারবার শ্রমিকদের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আবেদন নিবেদন সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। এরপরেই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাঁশদ্রোণীর খানপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল অঞ্চলে ৬০ জন ব্লিঙ্কিট রাইডার্স ১ লা জানুয়ারি থেকে ধর্মঘটে নেমেছেন।
গিগ শ্রমিকদের পক্ষে বিশ্বজিৎ নস্কর সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, মূলত নিম্নতম পারিশ্রমিকের কারণে আমরা ব্লিঙ্কিট রাইডার্সরা ধর্মঘট করছি। এছাড়াও পে-আউটের সমস্যা নিয়ে গত দু'মাস ধরে বারবার ম্যানেজমেন্টকে জানানো সত্ত্বেও তারা শোনেননি। বাধ্য হয়ে আমরা ধর্মঘটে সামিল হয়েছি। নিম্নতম দু'কিলোমিটারে ১৫ টাকা থেকে ১৬ টাকা করে অর্ডারপিছু দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এভাবে আমাদের চলবে না। এমনকি, বুধবার বর্ষশেষের উৎসবের দিনেও হাই আর্নিং ছিল, হাই অর্ডার ছিল। তা সত্ত্বেও অন্যান্য সাধারণ দিনের মতই আমরা একই দর, একই অর্ডার পেয়েছি।
ব্লিঙ্কিট-এর এই কর্মীরা দিনে ১২ থেকে ১৫ ঘন্টা কাজ করার পরেও এঁদের দৈনিক আয় ৫০০/৬০০ টাকারও কম। কেউ কেউ শনি অথবা রবিবার (সপ্তাহের যে দু'টো দিন অর্ডারের পরিমাণ অন্যদিনের অপেক্ষায় বেশি থাকে) ৯ ঘন্টা কাজ করেও মাত্র ২২১ টাকা, কেউ বা ২৩৭টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এই শ্রমিকদের প্রত্যেককেই বাইকের মাসিক কিস্তি, তেলের খরচ নিজেদেরকেই বহন করতে হয়। দুর্ঘটনা বা চিকিৎসার প্রয়োজনের খরচও নিজেদের। রাত্রিকালীন ডেলিভারির ক্ষেত্রে সুরক্ষার প্রশ্নেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন থাকেন।
ধর্মঘট চলাকালীন খানপুর হাবের গিগ শ্রমিকরা সিআইটিইউ অনুমোদিত ওয়েস্ট বেঙ্গল গিগ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃত্বে নেতাজিনগর থানায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানাতে যান। থানা প্রশাসনের সঙ্গে ইউনিয়ন ও গিগ শ্রমিক প্রতিনিধিদের দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। ইউনিয়নের তরফে এদিন ছিলেন রঙ্গন ঘোষ, সৌরভ গাঙ্গুলি, রাজদীপ সরকার ও শুভাশিস।
থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং কাজের সময় নিয়ে পরিচালকদের কাছে বারংবার আবেদন জানিয়েও কোনওরকম সুরাহা পাননি বলে জানানো হয়েছে। শ্রমিকরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, পাঁচ দফা দাবি না মেটা পর্যন্ত তাঁরা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন। পারিশ্রমিক বৃদ্ধি ছাড়াও অন্যান্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে — কাজের সময় নির্দিষ্ট করা, দৈনিক ইনসেন্টিভ বৃদ্ধি, ম্যানেজমেন্টের সহযোগিতা এবং শ্রমিদকের সামাজিক সুরক্ষা। থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়েরের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ম্যানেজমেন্ট, শ্রমিক এবং ইউনিয়নের সঙ্গে যথাসম্ভব দ্রুত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন