

কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিমের পর এবার আরজি করে নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে সুড় চড়ালেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। নির্যাতিতার বাবা-মা টাকা চান কিনা জানতে চান বিধায়ক। এক ধাপ এগিয়ে তাঁর আরও দাবি, ভোটে দাঁড়ানোর জন্য আসন খোঁজ করতে পারেন ওঁরা, তবে জিততে পারবেন না। এর পাল্টা নির্যাতিতার বাবার প্রশ্ন টাকা দিলে তাঁদের মেয়েকে কি শাসক দল ফিরিয়ে দিতে পারবেন? মদনের এই দাবির তীব্র নিন্দা করেছেন বিরোধীরাও।
এদিন মদন মিত্র অভিযোগ এনেছেন, বাম-বিজেপির কথায় নির্যাতিতার পরিবার চিত্রনাট্য বদল করছে। তিনি বলেন, ‘‘পরিষ্কার করে বলুন না, সিপিএম এবং বিজেপি আমাকে যেটা বলছে, সেটাই বলছি। তার জন্য আপনি কী চান? শুনেছি ডাক্তারদের চার-পাঁচ কোটি উঠেছিল। হ্যাঁ, যদি মনে করেন টাকা চান, টাকাই চান। সব কিছুই টাকা দিয়ে ঢাকা যায়!’’ মদনের আরও বক্তব্য, ‘‘আমরা পড়েছি, শ্রাদ্ধে কিছু দিতে পারি না, টাকা দিয়ে বলে ওম নমো ওম নমো ব্রাহ্মণায়ো অহং দদানি। ছেড়ে দিল টাকা দিয়ে”।
কামারহাটির বিধায়ক আরও জানান, ‘‘এত দিন আপনারা প্রত্যেক সন্তানের কাছে মা-বাবা ছিলেন। এখন অন্যায়ে মদতকারী এবং বাস্তবমূল্যের কিছু দাবি জানানোর জন্য, নিজেদের উপকৃত করতে, ক্ষতিপূরণের জন্য চিত্রনাট্য বদলে দিতে চাইছেন”।
মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলায় নির্যাতিতার পরিবারকে আক্রমণ করে মদনের মন্তব্য, ‘‘বিচারক রায় দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেননি। বরং, নির্দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে মমতা ফাঁসির আবেদন করেছেন। সেটা কেঁচিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাদের বিকাশবাবু, যিনি একজন প্রমাণিত, নির্ভুল মিথ্যেবাদী, আপনাদের মুখে মিথ্যে বসিয়ে দিচ্ছে! তা হলে আপনারা বলুন রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন। অনেক আসন ফাঁকা আছে। দাঁড়িয়ে যান! তাতে অনেকটা ক্ষতিপূরণ হবে”।
তাঁর সংযোজন, ‘‘আপনারা মা-বাবা হয়ে দাঁড়াতে পারতেন আদালতের কাছে। ফাঁসি না-চাইলে সিবিআই-কে বারণ করলেন না কেন? আর যদি ফাঁসি আর ফাঁসি নয়-এর মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে থাকতে চান, তা হলে কোথায় উপনির্বাচন আছে, খোঁজ করুন! তবে জিততে পারবেন না। চান্স নেই!’’
শাসক দলের এহেন মন্তব্যের পাল্টা নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, ‘‘আবার বলছি, কোনও চক্রান্তে আমরা পা দিইনি। উনি (মদন) এসে দেখে যান, আমরা কী ভাবে আছি। আর টাকার কথা বলছেন? তা হলে বলুন, আপনাকে কত টাকা দিলে আমাদের মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন?’’
অন্যদিকে, মদন মিত্রকে কটাক্ষ করেছেন সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘ওঁরা যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় হয়েছেন, তাতে সভ্য-ভদ্র আচরণ আশা করা যায় না। ওঁদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হল গুন্ডামি, দুর্নীতি”।
কংগ্রেসের ওয়াকিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘এঁরা জনপ্রতিনিধি? দুর্নীতি এবং অপরাধে মদতকারী এক জন মুখ্যমন্ত্রীর স্বার্থরক্ষা করতে জনপ্রতিনিধিরা যা করছেন, ভাবা যায় না!’’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন