"বিজেপি এবং তৃণমূল, দুই শাসকদল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এসআইআর’কে বিভাজনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চেয়েছে।" মালদহের ঘটনা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একথা জানিয়েছেন।
সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে মহম্মদ সেলিম জানান, আরএসএস’এর পরিকল্পনামাফিক এসআইআর রূপায়িত করতে নেমে নির্বাচন কমিশন ভোটের আগে সঠিক ভোটার তালিকা তৈরি করতে ব্যর্থ। কেন্দ্র ও এরাজ্যের প্রশাসনিক অফিসারদের দিয়ে সাংবিধানিক দায়িত্বপালনে কমিশনের ব্যর্থতার কারণেই এসআইআর এখন বিচার বিভাগের আওতায়। যে বিচারবিভাগে অসংখ্য জমে থাকা মামলায় কেবল তারিখের পর তারিখ ছাড়া কিছু জোটে না, সেই হয়রানির মধ্যে মানুষকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, আইনসভার জনপ্রতিনিধিরা, নির্বাচিত সরকার এবং তাদের প্রশাসন, সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন, এরা কেউ জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি, নির্ভুল ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপি এবং তৃণমূল, দুই শাসকদল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এসআইআর’কে বিভাজনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চেয়েছে।
সিপিআইএম-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাম না থাকা মানুষকে রাতারাতি বেনাগরিক করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা এই ষড়যন্ত্র করছে, যারা ভোটার তালিকায় কারচুপি করে ভোটের ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে চাইছে মানুষের ক্ষোভ তাদের বিরুদ্ধে বাড়ছে, মানুষের উষ্মার সম্মুখীন তাদের হতেই হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। রাজ্যের মানুষ নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। ওয়াকফ থেকে ওবিসি-এ, প্রতিটি ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে নাগপুরের নির্দেশের সামনে তৃণমূল সরকার আত্মসমর্পণ করছে।
কেরালা, তামিলনাড়ুর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় সরকার এসআইআর’এর বিরুদ্ধে কোনো সর্বদলীয় প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেনি, এমনকি কোনো সর্বদলীয় বৈঠকও করেনি। কেরালা, তামিলনাডু পারলে বাংলার সরকার জনগণের হেনস্থা রোধে উদ্যোগ নিতে পারলো না কেন?
সেলিম জানিয়েছেন, যখন মানুষ প্রতিকার চেয়ে রাস্তায় নামছে, তখন পুলিশ প্রশাসনকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জি সব ঘটনায় বিরোধীদের ওপর দোষ চাপান, কিন্তু সেভাবে এখন করে পার পাবেন না। রাজ্যে ধূলাগড় থেকে আসানসোল, সামসেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা হিংসার ঘটনায় পুলিশ মন্ত্রী হিসাবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশ কখন নিষ্ক্রিয় থাকবে আর কখন সক্রিয় হবে তা নবান্নের অঙ্গুলি হেলনে ঠিক হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচনের সময়েও মুর্শিদাবাদে তৃণমূল প্রার্থী মানুষকে গাড়ি চাপা দিয়েছিলেন। এখন মোথাবাড়িতে প্রশাসনের গাড়িতে মানুষ চাপা পড়বে? প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে এর দায়িত্ব তো মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে। এদিন সুপ্রিম কোর্ট এই প্রশাসনিক অপদার্থতার ওপরে সিলমোহর লাগিয়েছে।
বিবৃতিতে সিপিআইএম জানিয়েছে, যত আক্রমণই হোক, মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষায়, গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এখন মরিয়া হয়ে উঠছে। এটা স্পষ্টভাবে বুঝে নিতে হবে দুই শাসকদলকেই। বিজেপি-তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে ভোটের সময় ফের বিভাজনের রাজনীতিকে সামনে নিয়ে আসতে চাইছে। এখন বেছে বেছে যেভাবে প্রতিবাদী মানুষজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাতে প্রতিকার চাওয়া মানুষের মনোবল কমানো যাবে না। কোন রকম প্ররোচনা তৈরি করে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইকে ভাঙতে পারবে না ওরা।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন