কুণাল ঘোষ সহ ১১ জন আইনজীবীর নামে আদালত অবমাননার অভিযোগ, পৃথক মামলা কলকাতা হাইকোর্টে

আদালতের বক্তব্য, আদালত অবমাননার অভিযোগ পত্রে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনই কোনও বিধি জারি করবে না কোর্ট। বিচারপতি মুখার্জি বলেন, 'আমরা চাই না, বিক্ষোভকান্ডের সাথে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির নাম জড়াক।'
কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা হাইকোর্ট ফাইল ছবি সংগৃহীত

বিচারপতি রাজশেখর মান্থার এজলাসের বাইরে বিক্ষোভ ও আদালত অবমাননার রুল জারি বিতর্কে নয়া মোড়। গত ৯ ও ১০ জানুয়ারি, আদালত অবমাননার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সহ ১১ জন আইনজীবীর নামে আলাদা মামলা দায়ের করেছেন তাপস মাইতি।

তবে, এই অভিযোগ নিয়ে কোনও চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হননি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাসের বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, আদালত অবমাননার অভিযোগ পত্রে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনই কোনও বিধি জারি করবে না কোর্ট। বিচারপতি মুখার্জি বলেন, 'সবকিছুই প্রমাণ সাপেক্ষে। আমরা চাই না, বিক্ষোভকান্ডের সাথে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির নাম জড়িয়ে যাক।'

গত সোমবার এবং মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের একাংশ। তার আগে, বিচাপতির নাম উল্লেখ করে তাঁর বাড়ির সামনে পোস্টার সাঁটানো হয়। যেখানে লেখা হয়, ‘বিচারের নামে কলঙ্ক।’

আর, এই ঘটনাকে সামনে রেখে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থা। তা নিয়ে শুনানির জন্য তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

মঙ্গলবার, সেই মামলার শুনানিতে তিন বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে কোনও বিক্ষোভ করা যাবে না। এমনকি, শ্লোগান বা ব্যানারও দেওয়া যাবে না।

একইসঙ্গে, কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে আদালত জানিয়েছে, বিচারপতি মান্থার বিরুদ্ধে কারা এই পোস্টার দিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে কলকাতা পুলিশকে। পাশাপাশি, বিক্ষোভের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিজুক্ত আইনজীবীদের চিহ্নিত করতে হবে। অপরাধী আইনজীবীদের চিহ্নিতকরণের পর তাঁদের উপর মামলা দায়ের করবে আদালত।

প্রসঙ্গত, বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সুরক্ষা দেওয়া নিয়ে, গত বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজশেখর মান্থাকে আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ।

তৃণমূল মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বিচারপতি মান্থা সুরক্ষা দেওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেন, 'বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা, আপনি একের পর এক রক্ষাকবচ দিয়ে ওঁকে বেপরোয়া করে তুলেছেন। এক জন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হিন্দু-মুসলমান করবেন, সম্প্রীতি নষ্ট করবে, বিদ্বেষপূর্ণ ভাষণ দেবে, আপনার রক্ষাকবচে নিজেকে সে বলীয়ান ভাবছে।'

কলকাতা হাইকোর্ট
কলেজে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, BJP-র রাজ্য সভাপতির ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in