রাজ্যজুড়ে চলা দুর্নীতিতে সিবিআই-ইডির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে CGO কমপ্লেক্স অভিযান বামেদের

শুক্রবার, রাজ্য বামফ্রন্টের ডাকে বিভিন্ন জেলাগুলি থেকে মিছিল এসে জমায়েত করে বিধাননগরে। এরপর বিধাননগর থেকে দুপুর আড়াইটের সময় 'চোর ধরো জেল ভরো' স্লোগান তুলে সিজিও কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে মিছিল শুরু হয়।
রাজ্যজুড়ে চলা দুর্নীতির প্রতিবাদে সিজিও কমপ্লেক্স অভিযান বামেদের
রাজ্যজুড়ে চলা দুর্নীতির প্রতিবাদে সিজিও কমপ্লেক্স অভিযান বামেদেরছবি - নিজস্ব চিত্র

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল চাকরিপ্রার্থীদের অবিলম্বে নিয়োগ, দুর্নীতির দ্রুত তদন্ত, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং খাদ্যদ্রব্য ও ওষুধে জিএসটি লাগু হওয়ার প্রতিবাদে সিজিও কমপ্লেক্স অভিযান করল বামেরা। যার জেরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে সিজিও কমপ্লেক্স চত্বর।

শুক্রবার, রাজ্য বামফ্রন্টের ডাকে বিভিন্ন জেলাগুলি থেকে মিছিল এসে জমায়েত করে বিধাননগরে। এরপর বিধাননগর থেকে দুপুর আড়াইটের সময় 'চোর ধরো জেল ভরো' স্লোগান তুলে সিজিও কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে মিছিল শুরু হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, পলাশ দাস, শমীক লাহিড়ী, গার্গী চ্যাটার্জী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

এদিনের সমাবেশে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, সভা বানচাল করার জন্য পুলিশের লোকেরা এসে অত্যাচার করেছে। এই সরকার স্বৈরাচারী কায়দায় চলতে চাইছে। একে রুখতেই হবে। গণতন্ত্রকে হত্যা করতে আমরা দেবনা। যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, বেকারের সংখ্যা বাড়ছে তা অভাবনীয়। সেইদিকে নজর দিন। শহর গ্রাম নির্বিশেষে প্রতিটি এলাকায় প্রতিবাদে মুখর হতে হবে। মানুষের বাঁচার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, চাকরির অধিকারকে আমাদের প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।

সমাবেশস্থল থেকে সুজন চক্রবর্তী জানান, "অপরাধীদের বাইরে থাকার কোনও সুযোগ নেই। এবারে ঠিকমতো জেলে ভরে রাখুন। অনুব্রত মণ্ডলের দারুণ সুবিধা। মমতা ব্যানার্জী যাতে বাড়তি বিপদে না পড়ে ওই জন্য তোষামোদ করে যাচ্ছে অনুব্রতকে। নাহলে তো ধরা পড়ে যাবে।" তাঁর আরও সংযোজন, "সিবিআই-ইডি আমাকে ধরলে তো আমি খুশি হব। কমিউনিস্টরা অন্য ধাতুতে গড়া। আমাকে ধরলে ঠেলা বুঝবে।"

সিপিআই(এম) নেতা শমীক লাহিড়ীর কথায়, "কোর্টের নির্দেশে ২০১৪ সাল থেকে এই রাজ্যের নানা দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিজেপি নিজের থেকে উদ্যোগ নিয়ে কিচ্ছু করেনি। কিন্তু ইডি-সিবিআই বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে তদন্তে ঢিলেমি দিচ্ছে। কেউ তৃণমূল থেকে বিজেপিতে চলে গেলে ছাড়। আবার তৃণমূল-বিজেপির বোঝাপড়া হয়ে গেলে কারোর কারোর নাম চার্জশিট থেকে বাদ। এটা চলতে পারে কখনও? তাই আমাদের দাবি, নিরপেক্ষাভাবে তদন্ত করতে হবে। বিজেপি-তৃণমূলের রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তদন্ত নয়।"

রাজ্যজুড়ে চলা দুর্নীতির প্রতিবাদে সিজিও কমপ্লেক্স অভিযান বামেদের
'নজরে পঞ্চায়েত' - তৃণমূল ও বিজেপির দুর্নীতি প্রকাশ্যে আনতে নতুন উদ্যোগে সিপিআই(এম)

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in