BJP: সাত থেকে কমে তিন, শতাংশের হিসাবেও তৃতীয়, কেন এই অবস্থা! চিন্তায় গেরুয়া শিবির

কেন এই অবস্থা?‌ বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব, নব্য–আদির সংঘাত এসব তো আছেই। রয়েছে সাংগঠনিক দুর্বলতার দিকটিও। অনেক প্রার্থীই প্রচারে যথাযোগ্য সাহায্য পায়নি রাজ্য নেতৃত্বের থেকে।
BJP: সাত থেকে কমে তিন, শতাংশের হিসাবেও তৃতীয়, কেন এই অবস্থা! চিন্তায় গেরুয়া শিবির
ছবি প্রতীকীছবি দ্য প্রিন্ট-এর সৌজন্যে

২০১৫ পর ২০২১-মাত্র ছয় বছরে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা রাজ্য বিজেপির। গত পুরো নির্বাচনে কলকাতা পুরসভায় বিজেপির দখলে ছিল সাতটি ওয়ার্ড। এবছর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র তিনটিতে। জয়ী ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে কমে গিয়েছে।

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে দাপট দেখিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির, তাতে ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। এবার রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে নির্বাচিত হলেও ফাস্ট বয়ের সঙ্গে সেকেন্ড বয়ের ফারাক ছিল বিস্তর।

আসন সংখ্যা তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠন আরও শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে দুর্বল হতে থাকে বলে অভিযোগ দলেরই একাংশের। তিনটি ওয়ার্ডের দু’টিতে ২০১০ এবং ২০১৫ সালেও জিতেছিল বিজেপি। এবার ৫০ নম্বর ওয়ার্ড দখল করেছে।

কেন এই অবস্থা?‌ বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব, নব্য–আদির সংঘাত এসব তো আছেই। রয়েছে সাংগঠনিক দুর্বলতার দিকটিও। অনেক প্রার্থীই প্রচারে যথাযোগ্য সাহায্য পায়নি রাজ্য নেতৃত্বের থেকে। আর্থিকভাবে যথেষ্ট সহায়তা মেলেনি। এসব অভিযোগও আছে।

অর্ধেকেরও বেশি ওয়ার্ডে যথেষ্ট প্রচার হয়নি। তাই ফলাফল যে এরকমটাই হতে চলেছে, তা একেবারে আশ্চর্য ছিল না দলের কাছে। দিলীপ ঘোষ বলছেন, ‘‌যা হওয়ার ছিল, তাই হয়েছে৷’‌ বিজেপি শাসকদলের সন্ত্রাসের অভিযোগ আনলেও তার বাইরেও যে কারণ আছে, তা জানেন বিজেপি নেতারা। সন্ত্রাসের অভিযোগ মানতে চাননি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও।

পুরভোটের দিন ঘোষণার পরই আদলতে চলে গিয়েছে রাজ্য বিজেপি। মামলা করেছে। ফলে সংগঠন, প্রচারে জোর দেওয়ার সময় মেলেনি। কখনও একসঙ্গে সব পুরভোট করানো, কখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে মামলা- আদালতের রায় গিয়েছে বিপক্ষে। চাপে পড়েছে নেতৃত্ব। আদালতে বিজেপি যত সময় দিয়েছে, সেই সময়টা মাঠে দিলে অনেক বেশি কাজ হত বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। আর তার জের পৌঁছেছে নীচু তলার কর্মীদের মধ্যেও।

রাজ্যে বিধানসভা ভোটে বিজেপি ৭৭টি আসনে জিতেছিল। পরে এক এক করে আরও বিধায়ক যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। আর এসবের জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের রোষে পড়েন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মেয়াদের আগেই তাঁকে সরানো হয়। ওই পদে আনা হয় সুকান্ত মজুমদারকে। রাজ্য কমিটিতে কারা থাকবেন, তাও এখনও ঠিক করতে পারেনি বিজেপি।

বিধানসভা ভোটের ধাক্কা এখনও কাটাতে পারেনি বিজেপি। নির্বাচন পিছিয়ে যাক, চেয়েছিল। সব ওয়ার্ডে ঠিকমতো প্রার্থী হতে পারেনি বা এমন কোথাও প্রার্থী দিয়েছে, যেখানে কর্মী-সমর্থকরা তাদের চাননি। এসবের জের পড়েছে ফলাফলে।

ভোটের আগে কলকাতা পুরসভার ষোলটি বরোর দায়িত্ব ১৬ জন বহিরাগত বিধায়ককে দিয়েছিল বিজেপি। ফলে এলাকা সম্পর্কে সম্যক ধারণা তাঁদের ছিল না। ফলে প্রচার থেকে সংগঠন, সবই বাধা পেয়েছে।

ছবি প্রতীকী
Tathagata Roy: পুরভোটে বিজেপির ভরাডুবির জন্য ‘অসৎ-লম্পট চক্র’কে দায়ী করলেন তথাগত

GOOGLE NEWS-এ আমাদের ফলো করুন

Related Stories

No stories found.
People's Reporter
www.peoplesreporter.in