

আশা কর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। অভিযানে যোগ দিতে আসা আশা কর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় আটকে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে। স্বাস্থ্যভবন লোহার ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বাইরে পুলিশি নিরাপত্তাও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যভবনের সামনে পৌঁছেছেন অনেক আশাকর্মী এবং ব্যারিকেডের সামনে রাস্তায় বসেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা।
১৫ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি, কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বকেয়া সব ভাতা মিটিয়ে দেওয়া সহ বেশ কয়েক দফা দাবিতে রাজ্য় জুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন আশা কর্মীরা। টানা ৩০ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন তাঁরা। বুধবার স্বাস্থ্যভবনে ডেপুটেশন দিতে আসার কর্মসূচী ছিল তাঁদের। যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য মঙ্গলবারই আশাকর্মীদের বার্তা দিয়েছিলেন ডেপুটেশন দিতে আসতে হবে না তাঁদের। তবে মন্ত্রীর বার্তা অমান্য করে বুধবার সকাল থেকেই পথে নেমেছেন আশাকর্মীরা।
বিভিন্ন প্রান্তে আশাকর্মীদের আটকে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক আশাকর্মী ট্রেনে চেপে হাওড়া স্টেশনে আসেন স্বাস্থ্যভবন অভিযানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে। অভিযোগ, তাঁদের স্টেশনেই আটকে দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জ স্টেশন চত্বর থেকে আন্দোলনকারী আশাকর্মীদের আটক করা হয়। কাটোয়া স্টেশনে আশা কর্মীদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে GRP-র বিরুদ্ধে। বারাবনি থেকে বাস ভাড়া করে কলকাতায় আসার পথে বাস নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। অন্ডাল স্টেশনের সামনেও আশাকর্মীদের আটকে দেয় পুলিশ ও GRP।
বাঁকুড়া স্টেশন থেকেও গ্রেফতার করা হয় আশা কর্মীদের। মেদিনীপুর স্টেশনের বাইরেও কলকাতামুখী আশাকর্মীদের আটকে দেয় পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় আশাকর্মীদের দু'টি বাস আটকে রাখে পুলিশ বলে অভিযোগ। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা আশা কর্মীদের গতকালই বিভিন্ন স্টেশনে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। একই অভিযোগ মালদা, দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়ার আশা কর্মীদেরও। নির্দিষ্ট পোশাকে আশাকর্মীদের দেখলেই আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আশা কর্মীদের।
এর প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখান আশা কর্মীরা। থানা-স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ডোমজুড়ের শলপে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন আশাকর্মীদের একাংশ। ব্যাহত হয় যান চলাচল। সেক্টর ফাইভের টেকনো মোড়ে অবস্থান করছিলেন আশা কর্মীরা। সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে তাঁদের সরানো হয়েছে। ধর্মতলায় বাধাপ্রাপ্ত আশা কর্মীদের সাথে বচসা বাধে পুলিশের, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন আশা কর্মীরা।
স্বাস্থ্যভবনের বাইরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেউ যাতে ব্যারিকেড টপকে উল্টো দিকে যেতে না-পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে পুলিশ। মাইকিং করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে বেলা যত বাড়ছে, সমস্ত বাধা টপকে স্বাস্থ্যভবনের সামনে জমায়েত বাড়াচ্ছেন আশা কর্মীরা। প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছেন তাঁরা। সরকার উল্টে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় দেখা করেছেন আন্দোলনরত আশা কর্মীদের সাথে।
তবে আশাকর্মীদের এই আন্দোলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, আশাকর্মীদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মন্ত্রীর বার্তা, ‘‘আশাকর্মীদের উপরে মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতি রয়েছে। তাই ভরসা রাখুন। রাজনৈতিক স্বার্থে পাতা কোনও ফাঁদে পা দেবেন না।’’
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন