রাজ্যে ভোটের মুখে হঠাৎ কেন ইস্তফা দিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস তা এখনও ধোঁয়াশায়। বৃহস্পতিবার যেভাবে তিনি দিল্লিতে বসে আচমকা ইস্তফা দিলেন এবং তড়িঘড়ি তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবিকে বাংলার অন্তর্বর্তী রাজ্যপাল করা হল তা নিয়েই জল্পনা বেড়েছে। ঠিক কী উদ্দেশ্যে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সি ভি আনন্দ বোসকে সরিয়ে আর এন রবিকে রাজ্যে নিয়ে আসা হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের সংঘাতের কথা সারা দেশ জানে। বারবার বিভিন্ন বিষয়ে বিজেপি বিরোধী ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন তিনি। যে জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তও। রাষ্ট্রপতির কাছে আর এন রবিকে বরখাস্তের দাবিও জানিয়েছে স্ট্যালিন সরকার। বিতর্কিত সেই রবিকে ভোটের ঠিক মুখে এই রাজ্যের রাজ্যপাল করে নিয়ে আসাকে সন্দেহের দৃষ্টিতেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
২০১২ সালে অবসর গ্রহণ করেন আইপিএস আর এন রবি। ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৯-এ তিনি নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হন এবং ২০২১-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব সামলান। এরপরেই তাঁকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল করে পাঠানো হয়। কট্টর বিজেপি বিরোধী এম কে স্ট্যালিন এবং তাঁর ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বিগত কয়েক বছরে দফায় দফায় বিবাদে জড়িয়েছেন আর এন রবি।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে সি ভি আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের খবরে আমি স্তম্ভিত এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি আরও লেখেন, "এই মুহূর্তে তাঁর পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন তবে আমি অবাক হব না।"
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, "কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন যে শ্রী আর. এন. রবিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত রীতি অনুসারে কখনও আমার সাথে পরামর্শ করেননি।" "এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে এবং আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তির উপর আঘাত করে। কেন্দ্রকে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয়তার নীতিগুলিকে সম্মান করতে হবে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং রাজ্যগুলির মর্যাদা নষ্ট করে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।"
২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর পশ্চিম্বঙ্গের রাজ্যপাল হয়ে এসেছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। হিসেব মত ২০২৭-এর নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ ছিল। যদিও নির্ধারিত সময়সীমার অনেক আগেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন