কেমব্রিজে রাহুল গান্ধী
কেমব্রিজে রাহুল গান্ধী

'এক গোয়েন্দাই আমাকে বলেছিলেন আমরা আপনার ফোন ট্যাপ করছি', কেমব্রিজে ভারতের অবস্থা নিয়ে সরব রাহুল

রাহুল গান্ধী বলেন, 'ভারতে বিরোধীদের রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মন খুলে কথা বলার উপায় নেই।'

ফোনে আড়িপাতা বা পেগাসাস ইস্যু নিয়ে আবার সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তৃতায় কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, 'ভারতীয় গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোর ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এবং আমার ফোনেও ইজরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস ছিল।'

রাহুল গান্ধী দাবি করেন, এক গোয়েন্দা আধিকারিক তাঁকে এই বিষয়ে সতর্ক করেন। কেমব্রিজ জজ বিজনেস স্কুলে MBA শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ফোনে পেগাসাস ছিল। অনেক রাজনীতিবিদদের ফোনে পেগাসাস ছিল। আমাকে এক গোয়েন্দা আধিকারিক ডেকে বলেছিলেন, 'আপনি ফোনে যা বলছেন তা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন কারণ আমরা সব ট্যাপ করছি।’ ক্রমাগত এই ধরণের চাপ আমাদের পেতে হচ্ছে। বিরোধীদের উপর মামলা দায়ের হচ্ছে। আমার নামেও এমন অনেক অভিযোগ আনা হয়েছে যেগুলি কোনভাবেই ফৌজদারি দণ্ডবিধির মধ্যে পড়ে না। আমরা এই পরিস্থিতিই বদলানোর চেষ্টা চালাচ্ছি।’

তিনি বলেন, 'ভারতে বিরোধীদের রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মন খুলে কথা বলার উপায় নেই।'

ভারতে সংসদ, মিডিয়া এবং বিচার ব্যবস্থার উপরে চাপ তৈরির কথাও তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘সবাই জানে এবং এটা অনেক খবরে এসেছে যে, ভারতীয় গণতন্ত্র চাপের মধ্যে রয়েছে। ভারতের একজন বিরোধী নেতা হিসাবে আমি সেটি ভালো করে জানি। গণতন্ত্রের জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন - সংসদ, স্বাধীন গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ, চিন্তার মধ্যে বৈচিত্র্য; সবকিছুই এখন সংকীর্ণ হয়ে আসছে। বলা যায়, ভারতীয় গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোর উপর আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছি আমরা।’

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বাদল অধিবেশনের আগে প্রকাশ্যে এসেছিল পেগাসাস ইস্যু। এই নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পরে, পেগাসাস ইস্যুতে মামলা হয় শীর্ষ আদালতে।

এরপর, ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর পেগাসাস তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর ভি রভেন্দ্রনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। প্রায় ১০ মাস পর ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট, তদন্ত রিপোর্ট পেশ করে কমিটি।

জানা যায়, কমিটি যে ২৯ টি মোবাইল পরীক্ষা করেছে, তার মধ্যে ৫টিতে ম্যালওয়্যারের (Malware) খোঁজ মিলেছে। তবে তা পেগাসাস স্পাইওয়্যার কিনা, তার নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি বলে জানায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

তবে রিপোর্টে পেগাসাস তদন্তে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনেছে তদন্ত কমিটি।

কেমব্রিজে রাহুল গান্ধী
বুলেটের চেয়ে ব্যালটের শক্তি বেশি, দুর্বল-চিত্তের কাউকে নির্বাচন কমিশনার করা যায় না: সুপ্রিম কোর্ট

GOOGLE NEWS-এ Telegram-এ আমাদের ফলো করুন। YouTube -এ আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।

logo
People's Reporter
www.peoplesreporter.in