

বুকার পুরস্কারজয়ী লেখিকা অরুন্ধতী রায় বিজেপি সরকারের নেতৃত্বাধীন দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন। জেলবন্দী মানবাধিকারকর্মী জি.এন. সাইবাবার একটি কবিতার বই - ‘হোয়াই ডু ইউ ফিয়ার মাই ওয়ে সো মাচ’ - প্রকাশ অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি দেশের বর্তমান অবস্থাকে পিছন দিকে যাওয়া এরোপ্লেনের সাথে তুলনা করেছেন এবং তাঁর দাবি শীঘ্রই এরোপ্লেনটি মতো ধ্বংস হবে।
অরুন্ধতী রায় বলেন, “১৯৬০ সালে সম্পদ এবং জমির পুনর্বণ্টনের জন্য বিপ্লবী আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এতো বছর পরেও আমদের দেশের বর্তমান নেতা-মন্ত্রীরা ৫ কেজি চাল ও ১ কেজি নুন বিলি করে ভোটে জিতছেন।”
ব্যাঙ্গের সুরে তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমি আমার এক পাইলট বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে তুমি কী তোমার প্লেন পিছন দিকে চালাতে পারো? সে হেসে বলেছিল, এটা তো এখন চারিদিকে চলছে। আমাদের দেশের নেতৃত্বরা এখন উল্টো পথে প্লেন চালাচ্ছেন এবং আমরা সবাই একটা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন - আমাদের দেশ ভারতকে আমরা 'অত্যাধুনিক আইনশাস্ত্রের’ আওতাধীন দেশ বলে থাকি, কিন্তু আজ দেশের হাল দেখে বোঝা যায় তা কোন জায়গায় পৌঁছেছে। জাত, শ্রেণী, ধর্ম, লিঙ্গ বিচারে যে দেশের আইন পাল্টে যায় সে দেশের ‘অত্যাধুনিক আইনশাস্ত্র’ যে শুধু নামেই বজায় আছে কাজের বেলা নেই, বোঝাই যায়! আমরা একজন অধ্যাপক তথা মানবাধিকার কর্মীকে জেলে বন্দী করে রেখেছি সাত বছর ধরে। তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশ প্যারালাইসড। এই ঘটনা থেকেই খুব ভালো করে বোঝা যায়, আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা কী।''
উল্লেখ্য, অধ্যাপক জি.এন সাইবাবার শরীরের ৯০ শতাংশ অচল, তিনি জেলের মধ্যে হুইলচেয়ারে রয়েছেন ২০১৭ সাল থেকে। মাওবাদী সন্দেহে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছিলেন। সাইবাবা দিল্লি কলেজ ও রাম লাল আনন্দ কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কাজ করতেন। গত বছর মার্চ মাসে সেখান থেকেও তাঁকে বহিষ্কৃত করা হয়।
ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (CPI) সাধারণ সম্পাদক ডি. রাজাও জহর ভবনে হওয়া এই বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অবিলম্বে সাইবাবাকে জেল থেকে মুক্তির দাবি জানান। তিনি বলেন মানুষকে ‘শহুরে নকশাল’, ‘জঙ্গি’, ‘মাওবাদী’ আখ্যা দিয়ে জেলে পাঠানো এখন খুব সাধারন ঘটনা। ডি. রাজা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিশানা করে বলেন, “আমি আবারও সতর্ক করছি, একজন কমিউনিস্টকে খুন করতে পারেন, কিন্তু তাঁকে পরাজিত করতে পারবেন না।"
এদিন বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাইবাবার স্ত্রী ভাসান্থা। কিভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের আম্লাপুরাণের একটি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে একজন অধ্যাপক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সাইবাবা, সেই বিষয়ে বিস্তারিত বলেন তিনি। নাগপুরের জেলে সাইবাবার ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন