তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনে থালাপতি বিজয়ের টিভিকে-কে সমর্থন করার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার বিকেলে বৈঠকে বসছে সিপিআইএম তামিলনাড়ু। গতকালই বিজয়কে সরকার গঠন করতে দেবার সুযোগ দেবার জন্য তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে সিপিআইএম।
গতকাল সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক পি ষন্মুগম তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের কাছে করা এক আবেদনে জানান, বিজয়কে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ তাঁর দল তামিলাগা ভেত্তরি কাজাঘাম এবারের নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হয়েছে।
এক বিবৃতিতে সিপিআইএম নেতা জানিয়েছেন, টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়ই শুধুমাত্র সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। বিজেপি এক্ষেত্রে রাজ্যপালকে ব্যবহার করে সংবিধান বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে তৎপর। যে কারণে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বিজয়কে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে অকারণ দেরি করছেন। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তামিলনাড়ুর সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের টিভিকে জয়ী হয়েছে ১০৮ আসনে। যদিও ২৪৩ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। যা থেকে ১০ আসন কম আছে বিজয়ের। ইতিমধ্যেই ডিএমকে-র জোটসঙ্গী কংগ্রেস বিজয়কে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। যাদের বিধায়ক সংখ্যা ৫। ডিএমকে-র ওপর দুই জোট সঙ্গী সিপিআইএম এবং সিপিআই যদি বিজয়কে সমর্থন দেয় সেক্ষেত্রেও আরও একজন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। রাজ্যপালের কাছে দু’বার বিজয় গিয়ে দেখা করলেও তিনি এখনও বিজয়কে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে রাজী নন। জানা গেছে, তিনি বিজয়কে আগে সমর্থন জোগাড় করতে বলেছেন।
অন্যদিকে ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনও বিজয়কে সরকার গঠন করতে দেবার পক্ষে। তিনি বৃহস্পতিবার স্পষ্টই জানিয়েছেন, বিজয়কেই সরকার গঠন করতে দেওয়া উচিত এবং আমরা তাতে কোনওরকম বাধা দেব না। পাশাপাশি স্ট্যালিন জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে জোট করে সরকার গঠনের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তার কোনও ভিত্তি নেই। সূত্র অনুসারে, স্ট্যালিনের সঙ্গে আলোচনা করেই বিজয়কে সমর্থন করতে চাইছে সিপিআইএম।
এবারের তামিলনাড়ু নির্বাচনে ডিএমকে-র জোটসঙ্গী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটি করে আসনে জয়ী হয়েছে সিপিআইএম ও সিপিআই। কেলভেলুর এবং পদ্মনাভপুরম আসনে সিপিআইএম প্রার্থী লতা টি এবং চেল্লাস্বামী আর যথাক্রমে ২,২৭৮ এবং ১৫,৫৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। রাজ্যের থাল্লি এবং থিরুথিরাইপন্ডী আসন দুটিতে যথাক্রমে ৫,২৪০ এবং ১২,৯২২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে সিপিআই।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন