

সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ভি ডি সাভারকারকে নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানির মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২২ সালে 'ভারত জোড়ো যাত্রা' চলাকালীন সাভারকরকে নিয়ে রাহুল গান্ধীর করা বক্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের হয়েছিল।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই মামলায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা বিচার প্রক্রিয়া চালানোর জন্য আইন অনুযায়ী যে অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল, উত্তরপ্রদেশ সরকার তা প্রদান করেনি।
লাইভ ল-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ যখন মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে তখন বিচারপতি দত্ত জানতে চান এই বিষয়ে রাজ্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে কি না। রাজ্যের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ জানান যে কোনও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, সিআরপিসি (CrPC)-র ১৯৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, আইপিসি (IPC)-র ১৫৩এ ধারার অধীনে কোনও অপরাধ বিচারের আওতায় আনার জন্য রাজ্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন।
নটরাজ অনুরোধ করেন, যদি অনুমোদন না থাকে তবে সমন জারির আদেশ আপাতত বাতিল করে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার জন্য যেন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত পাঠানো হয় এবং অনুমোদনের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
এর জবাবে বিচারপতি দত্ত জানান, অভিযোগ বিচারের আওতায় আনার আগেই অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, "যদি অনুমোদন না থাকে, তবে বিষয়টি সেখানেই শেষ।" এরপর মামলাটি খারিজ করার নির্দেশ দেয় বেঞ্চ।
বেঞ্চ তার পর্যবেক্ষণে জানায়, উত্তরপ্রদেশ সরকারের দাখিল করা হলফনামায় আপিলকারী-অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালানোর জন্য অনুমোদন প্রদানের কোনো উল্লেখ নেই। এই পরিস্থিতিতে, অভিযোগ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া আদেশ খারিজ করা হলো।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে 'ভারত জোড়ো যাত্রা' চলাকালীন রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, সাভারকর ব্রিটিশদের সেবক ছিলেন এবং তিনি ব্রিটিশদের কাছ থেকে পেনশন নিতেন। নৃপেন্দ্র পান্ডে নামের এক আইনজীবী কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে গান্ধী সাভারকরকে ব্রিটিশদের সেবক এবং পেনশনভোগী বলে অভিহিত করেছেন।
২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট রাহুল গান্ধীকে কোনো স্বস্তি বা আইনি সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট গত বছরই এই মামলার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তবে স্থগিতাদেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি দত্ত রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করেন এবং প্রশ্ন তোলেন যে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সাথে কি এভাবেই আচরণ করা উচিত। ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের মন্তব্য করা হয়, তবে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করবে বলেও জানান তিনি।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন