

দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের ছাত্রীদের বিনামূল্যে বায়ো-ডিগ্রেডেবল স্যানিটারি প্যাড দেবার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, ঋতুস্রাবের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার (Menstrual Hygiene Management – MHM) বিষয়টি মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। যা নিশ্চিত করেছে দেশের সংবিধান। এই বিষয়ে শীর্ষ আদালত ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ডঃ জয়া ঠাকুরের দায়ের করা এক জনস্বার্থ মামলায় একথা জানিয়েছে।
বিচারপতি জে বি পাদরিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ এদিন জানিয়েছে, সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ছেলে এবং মেয়েদের জন্য আলাদা বাথরুমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও শারীরিকভাবে অসুবিধাপ্রাপ্তদের জন্যও বিশেষ বাথরুমের ব্যবস্থা করতে হবে।
আদালত জানিয়েছে, সব স্কুলকে অবশ্যই বিনামূল্যে অক্সো-বায়োডিগ্রেডেবল স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করতে হবে। এই প্যাড ছাত্রীদর জন্য সহজলভ্য হতে হবে, বিশেষ করে শৌচাগারের ভেতরে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে, অথবা যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে এমন ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব নয়, সেখানে স্কুলের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বা একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে জীবনের অধিকারের অংশ। যদি বেসরকারী স্কুলগুলি এই সুযোগ সুবিধা না দিতে পারে সেক্ষেত্রে তাদের স্বীকৃতি বাতিল করা হবে। সরকার যদি মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে সরকারকেও জবাবদিহি করতে হবে।
আদালতের যুক্তি অনুসারে, এই ধরনের ব্যবস্থা না থাকলে ঋতুস্রাবকালীন সময়ে ছাত্রীরা কলঙ্ক, গতানুগতিক ধারণা এবং হীনমন্যতার সৃষ্টি হতে পারে। আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদার সাথে তাদের ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য বিধি রক্ষার বৈধ অধিকার রয়েছে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে যে, ঋতুস্রাবের সময় স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত সুবিধার অভাব মেয়েদের শিক্ষার অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যখন এই ধরনের সুবিধার অভাবে ছাত্রীরা ঋতুস্রাবের সময় ক্লাসে অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হয়। যার ফলে ড্রপ আউটের সংখ্যা বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে জয়া ঠাকুরের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় বলা হয়েছিল, দেশ জুড়ে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রীদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতের প্রয়োজন নিরপেক্ষ এবং প্রশ্নমুখী সাংবাদিকতা — যা আপনার সামনে সঠিক খবর পরিবেশন করে। পিপলস রিপোর্টার তার প্রতিবেদক, কলাম লেখক এবং সম্পাদকদের মাধ্যমে বিগত ১০ বছর ধরে সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই কাজকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন আপনাদের মতো পাঠকদের সহায়তা। আপনি ভারতে থাকুন বা দেশের বাইরে — নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে একটি পেইড সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখতে পিপলস রিপোর্টারের পাশে দাঁড়ান। পিপলস রিপোর্টার সাবস্ক্রাইব করতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন